বইয়ের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে, লেখক ও পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী ‘স্বাধীনতার বই উৎসব ২০২৬’।
শৈলী প্রকাশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধন হয়েছে গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০টায় বেলুন উড়িয়ে।
উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সংবাদ ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক।
এ সময় তিনি বলেন, “সাধারণ হতে পারাটা একটি অসাধারণ গুণ। এই চর্চা আমাদের সবার প্রয়োজন।” বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “ফুলের বদলে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠা উচিত। কারণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহারই হচ্ছে বই।”
তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত লাইব্রেরি ভ্রমণের স্মৃতি তুলে ধরেন এবং জানান, পাঠকের অভাবে বন্ধ থাকা আজাদী অফিসের লাইব্রেরি পুনরায় চালু করার আশ্বাসও দেন।
তিনি বলেন, “বই আমাদের আলোর পথ দেখায়। একটি ভালো বই একজন বন্ধুর মতো, আর একজন ভালো মানুষ পুরো একটি লাইব্রেরির সমান।”
উৎসবের আহ্বায়ক প্রাবন্ধিক নেছার আহমদের সভাপতিত্বে এবং শৈলী প্রকাশনের প্রকাশক ও বাচিক শিল্পী আয়েশা হক শিমুর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী আলোচনা সভায় অংশ নেন অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারা আলম, ব্যাংক এশিয়ার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়েস চৌধুরী, প্রাবন্ধিক কাজী রুনু বিলকিস, অধ্যাপক ফাতেমা জেবুন্নেসা এবং গীতিকার জসিম উদ্দিন খান।
স্বাগত বক্তব্য দেন সদস্য সচিব প্রাবন্ধিক নিজামুল ইসলাম সরফী। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করে উঠোন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীরা।
সকাল সোয়া ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার কিশোর কবিতা উৎসব। এতে উদ্বোধক ছিলেন শিশুসাহিত্যিক অরুণ শীল এবং সভাপতিত্ব করেন কবি আজিজ রাহমান। কবিতা পাঠ করেন আবুল কালাম বেলাল, আনোয়ারুল হক নূরী, জাকির হোসেন কামাল, আকাশ আহমেদ, ওবায়দুল সমীর, অমিত বড়ুয়া, ইসমাইল জসীম, সনজিত দে, প্রদ্যোত কুমার বড়ুয়া, আখতারুল ইসলাম, কানিজ ফাতিমা, সুবর্ণা দাশ মুনমুন ও লিটন কুমার চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অঞ্জলি বড়ুয়া।
বিকেল সাড়ে ৩টায় দ্বিতীয় অধিবেশনে আবৃত্তি ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রফেসর রীতা দত্ত।
শৈলীর উপদেষ্টা শিশু সাহিত্যিক রাশেদ রউফের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন রিটন কুমার বড়ুয়া। এরপর ‘বিশ্বভরা প্রাণ’ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির শিল্পীরা পরিবেশন করেন স্বাধীনতার গান, যার পরিচালনায় ছিলেন শিমলী দাশ।
‘আমার লেখায় আমার স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন অভীক ওসমান। এতে অংশ নেন নাসের রহমান, দীপক বড়ুয়া, বিচিত্রা সেন ও রশীদ এনাম।
বিকেল ৫টায় স্বাধীনতার কবিতা উৎসব (পর্ব–১) উদ্বোধন করেন কবি খুরশীদ আনোয়ার এবং সভাপতিত্ব করেন কবি আকতার হোসাইন। এতে কবিতা পাঠ করেন জাহাঙ্গীর আজাদ, কল্যাণ বড়ুয়া, মুহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, শামীম ফাতেমা মুন্নী, ফারহানা ইসলাম রুহী, শাহিদা জাহান, শিরিন আফরোজ, পুষ্পিতা সেন, উজ্জ্বল সম্পু, জেবারুত সাফিনা, চাঁদ সুলতানা নকশী, সৈয়দা করিমুননেসা, মোহাম্মদ ইসমাইল ও নাহিদ আকতার লাকী।
সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে স্বাধীনতার গল্প পাঠের উদ্বোধন করেন কবি ওমর কায়সার। এতে অংশ নেন কাসেম আলী রানা, ইফতেখার মারুফ, রুনা তাসমিনা ও লিপি বড়ুয়া।
‘কীভাবে বইয়ের পাঠক বাড়ানো যায়’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন মো. মাজহারুল হক। এতে বক্তব্য দেন প্রফেসর নারায়ন বৈদ্য, ড. উজ্জ্বল কুমার দেব, ড. শ্যামল কান্তি দত্ত, রেজাউল করিম স্বপন, মোহাম্মদ জহির, সালাউদ্দিন শাহরিয়ার ও শাহেদ আলী টিটু।
স্বাধীনতার ছড়া উৎসব (পর্ব–১) উদ্বোধন করেন বিপুল বড়ুয়া এবং সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার।
আজকের আয়োজন
আজ শনিবার (২৮ মার্চ) উৎসবের সমাপনী দিনে বিকেল ৩টা ৫৯ মিনিটে আবৃত্তি ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে উদ্বোধন করবেন অধ্যক্ষ তহুরীন সবুর ডালিয়া এবং সভাপতিত্ব করবেন প্রাবন্ধিক সাইফুদ্দিন আহমেদ সাকী।
বিকেল ৫টায় স্বাধীনতার ছড়া উৎসব (পর্ব–২) উদ্বোধন করবেন ছড়াকার উৎপলকান্তি বড়ুয়া, সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষাবিদ মর্জিনা আখতার।
সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় স্বাধীনতার কবিতা আবৃত্তির উদ্বোধন করবেন কবি সুলতানা নুরজাহান রোজী। এতে অংশ নেবেন সৌভিক চৌধুরী, সিমলা চৌধুরী, মলিনা মজুমদার, রিনিক মুন, এস টিএফ যুঁথী, সুপ্রিয়া বড়ুয়া ও এনায়েত হোসেন পলাশ।
সন্ধ্যা ৬টায় নতুন বইয়ের পাঠ উন্মোচন উৎসব উদ্বোধন করবেন কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী এবং সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক কাঞ্চনা চক্রবর্তী।
সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে স্বাধীনতার গান (পর্ব–২) পরিবেশন করবেন শিউলী নাথ, কাকলী দাশগুপ্ত, মিতা দাশ, সত্যজিৎ দাশ কাঞ্চন ও কুমুদিনী কলি।
সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার কবিতা উৎসব (পর্ব–২) উদ্বোধন করবেন কবি রিজোয়ান মাহমুদ এবং সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক মৃণালিনী চক্রবর্তী। রাত ৮টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেবেন মোহাম্মদ জহির, শঙ্কর প্রসাদ দে, রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও খনরঞ্জন রায়।
উৎসব ঘিরে সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজন বইয়ের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াবে এবং স্বাধীনতার চেতনায় সমৃদ্ধ একটি পাঠকসমাজ গড়ে তুলবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















