০৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামদা হাতে ছিনতাইকারী, বিব্রত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে এক চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে পড়তে হয়েছে অদ্ভুত ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। রামদা হাতে কাদায় আটকে থেকেও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় অভিযুক্ত মো. রুবেল। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে হালিশহর এলাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার স্কাইভিউ টাওয়ার সংলগ্ন একটি ডোবায় এ ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রুবেল রামদা হাতে পুলিশকে ভয় দেখিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে রুবেলকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায় হালিশহর থানা পুলিশ। এ সময় একটি দোকান থেকে তাকে ধাওয়া দিলে রুবেল দৌড়ে পালিয়ে একটি ভবনে উঠে পড়ে। পরে হঠাৎ করেই পাশের একটি ডোবায় লাফ দেয় সে। কিন্তু সেখানে কাদায় আটকে পড়ে তার শরীর।

এ অবস্থায় পুলিশ তাকে বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালেও রুবেল কাদার মধ্যেই গড়াগড়ি করতে থাকে। ঘটনাটি দেখতে আশপাশে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা।

স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার মজুমদার জানান, “রুবেল কাদায় আটকে যাওয়ার পর তার স্ত্রী এসে ছাতার আড়ালে একটি ধারালো রামদা দিয়ে যায়। পুলিশ তখন বিষয়টি বুঝতেই পারেনি। পরে ছাতা সরাতেই রুবেল রামদা হাতে সবাইকে ভয় দেখাতে শুরু করে।”
তিনি আরও জানান, কাদার গভীরতার কারণে কেউ কাছে যেতে পারছিল না। কেউ এগোলেই রামদা দিয়ে কোপানোর হুমকি দিচ্ছিল রুবেল। এতে পুলিশ সদস্যরাও নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, রুবেল ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফকিরগলিতে তাদের বসবাস। এর আগেও অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল সে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং এলাকায় প্রায়ই ছিনতাই ও হামলার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দিন বলেন, “রুবেলের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার করতে গেলে সে ডোবায় লাফ দেয় এবং কাদায় আটকে পড়ে। আমরা তাকে অনেকবার বুঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে উঠতে রাজি হয়নি। কাছে গেলেই রামদা দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের আশঙ্কা, জোর করে ধরতে গেলে সে নিজেই নিজেকে আহত করতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আবার অভিযান চালানো হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে চট্টগ্রাম হয়ে উঠল “জুলুসের শহর”, জশনে জুলুসের পাঁচ দশকের ইতিহাস

রামদা হাতে ছিনতাইকারী, বিব্রত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:১৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে এক চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে পড়তে হয়েছে অদ্ভুত ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। রামদা হাতে কাদায় আটকে থেকেও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় অভিযুক্ত মো. রুবেল। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে হালিশহর এলাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার স্কাইভিউ টাওয়ার সংলগ্ন একটি ডোবায় এ ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রুবেল রামদা হাতে পুলিশকে ভয় দেখিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে রুবেলকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায় হালিশহর থানা পুলিশ। এ সময় একটি দোকান থেকে তাকে ধাওয়া দিলে রুবেল দৌড়ে পালিয়ে একটি ভবনে উঠে পড়ে। পরে হঠাৎ করেই পাশের একটি ডোবায় লাফ দেয় সে। কিন্তু সেখানে কাদায় আটকে পড়ে তার শরীর।

এ অবস্থায় পুলিশ তাকে বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালেও রুবেল কাদার মধ্যেই গড়াগড়ি করতে থাকে। ঘটনাটি দেখতে আশপাশে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা।

স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার মজুমদার জানান, “রুবেল কাদায় আটকে যাওয়ার পর তার স্ত্রী এসে ছাতার আড়ালে একটি ধারালো রামদা দিয়ে যায়। পুলিশ তখন বিষয়টি বুঝতেই পারেনি। পরে ছাতা সরাতেই রুবেল রামদা হাতে সবাইকে ভয় দেখাতে শুরু করে।”
তিনি আরও জানান, কাদার গভীরতার কারণে কেউ কাছে যেতে পারছিল না। কেউ এগোলেই রামদা দিয়ে কোপানোর হুমকি দিচ্ছিল রুবেল। এতে পুলিশ সদস্যরাও নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, রুবেল ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফকিরগলিতে তাদের বসবাস। এর আগেও অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল সে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং এলাকায় প্রায়ই ছিনতাই ও হামলার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দিন বলেন, “রুবেলের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার করতে গেলে সে ডোবায় লাফ দেয় এবং কাদায় আটকে পড়ে। আমরা তাকে অনেকবার বুঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে উঠতে রাজি হয়নি। কাছে গেলেই রামদা দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের আশঙ্কা, জোর করে ধরতে গেলে সে নিজেই নিজেকে আহত করতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আবার অভিযান চালানো হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;