আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। মানবসভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিবহ একটি দিন। ১৯৭১ সালের এই রাতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালির ওপর আধুনিক মরণাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ইতিহাসের এই কালরাত্রিতে শুরু হওয়া সেই গণহত্যা ৯ মাস স্থায়ী হয়ে কেড়ে নিয়েছিল ৩০ লক্ষ প্রাণ।
অপারেশন সার্চলাইট: সেই রক্তস্নাত রাত
১৯৭১ সালের ১৮ মার্চ পরিকল্পনাকৃত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বর্বর হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকসহ জহুরুল হক হলের ২০০ ছাত্র এবং রোকেয়া হলের ৩০০ ছাত্রীকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
রাজারবাগের প্রতিরোধ:
পাকিস্তানি বাহিনীর প্রথম লক্ষ্য ছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইন। তবে অকুতোভয় পুলিশ সদস্যরা দমে না গিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রায় চার ঘণ্টার সেই অসম যুদ্ধে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য শহীদ হন এবং প্রায় দেড়শ জন বন্দি হন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
“২৫ মার্চ বাঙালির ইতিহাসে বেদনার এক ভয়াবহ অধ্যায়। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।” — রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ২৫ মার্চের সেই সুপরিকল্পিত গণহত্যা ছিল মূলত বাঙালির কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক অপারেশন সার্চলাইটে নিহত ও আক্রান্তদের স্মরণে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। আন্তর্জাতিক ভাবে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এরই মধ্যে এই অপরাধযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জেনোসাইড ওয়াচ এবং লেমকিন ইন্সটিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন। এছাড়া সংস্থা দুটি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যাকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য আহ্বান জানায়।
গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, দুপুর ১২টা থেকে সারা দেশে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আর বাদ জোহর বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। রাতে কোনো আলোকসজ্জা রাখা যাবে না।
শোকের প্রতীক হিসেবে রাতে কোনো প্রকার আলোকসজ্জা না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















