চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ২নং বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের মহালঙ্কা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি কৃষক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে হরী মোহন নাথের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে ঘর থেকে পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বের করতে পারেননি তারা। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্বর্ণালংকার, ঘরে মজুত চাল-ধান—সবই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কৃষিনির্ভর এসব পরিবারের গোলাভরা ধান ও ঘরভর্তি চাল মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কোথায় থাকবেন, কী খাবেন—এই অনিশ্চয়তায় তারা দিশেহারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া টিন, কাঠ ও গৃহস্থালির সামগ্রীর স্তূপ পড়ে আছে চারদিকে।
এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর বই-খাতাও পুড়ে যায়। পরে মহালঙ্কা স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুলের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সহপাঠীদের জন্য বই সরবরাহ করে সহমর্মিতার নজির স্থাপন করে। এছাড়া স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে কিছু শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফকরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, শুকনো খাবার, চাল, কম্বল ও নগদ ৬ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও ক্ষুদ্রঋণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে এসে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারগুলো আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
পলাশ / খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















