০৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
‘টাকা না দিলে রিপোর্ট আসবে না’—অভিযোগে হতাশ পরিবার

সীতাকুণ্ডে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ধর্ণা অসহায় বাবার

  • কাইয়ুম চৌধুরী ।।
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৪০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০৬ শেয়ার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক অসহায় বাবা তার ২১ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যার বিচার চেয়ে প্রতিদিন প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। চোখের জল আর কণ্ঠের অসহায়তায় তিনি একটাই দাবি জানাচ্ছেন—“আমার নিরপরাধ মেয়ের ন্যায় বিচার চাই।”

অভিযোগকারী বাবা মো. মোস্তফা স্বপন সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমজিদ্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাংবাদিকদের জানান, এক বছর আগে তার মেয়ে নাজমুন নাহান প্রমা (২১)-কে একই এলাকার শাহজাহানের ছেলে মো. জামশেদ আলমের সঙ্গে বিয়ে দেন।

বিয়ের পর থেকেই প্রমা স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দেন-দরবার ও সালিশ হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

মোস্তফা স্বপনের অভিযোগ, গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১টার দিকে গোসল শেষে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেতে যাওয়ার সময় সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে শ্বশুর-শাশুড়ি প্রমার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে তার গলায় কাপড় বেঁধে ঘরের ভেতর অল্প উঁচু স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

তিনি বলেন, “আমার মেয়ের পা তখনও মাটিতে লেগে ছিল। এটা কীভাবে আত্মহত্যা হয়?”

ঘটনার পর সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে এনে হাম্মেদিয়া দীঘির পাড়ে দাফন করা হয়।

মেয়ের বাবার দাবি, “ময়নাতদন্তের পর আমি নিজ চোখে দেখেছি, আমার মেয়ের গলায় আঙুলের স্পষ্ট দাগ ছিল। তারপরও শ্বশুরবাড়ির লোকজন এটাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিচ্ছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে হতাশ হতে হয়েছে।

“আমাকে বলা হয়েছে—স্বামীর পক্ষ নাকি এক লাখ টাকা দিতে রাজি। আমি গরিব মানুষ, কোথা থেকে দেবো? তখন বলা হয়েছে, টাকা না দিলে রিপোর্ট আমার পক্ষে আসবে না।”

এই অভিযোগে চরম হতাশ মোস্তফা স্বপন বলেন, “আমি বুঝে গেছি, আমার মেয়ের হত্যার বিচার পাওয়া খুব কঠিন। তবুও আমি হার মানব না। সাংবাদিকদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছি—যদি কেউ আমার মেয়ের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সাহায্য করেন।”

স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়; ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, প্রভাব ও অর্থের কারণে যেন একটি হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা না পড়ে—সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার।

এদিকে অসহায় এই বাবার কান্না শুধু একজনের নয়—এটি সমাজে বিচারহীনতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। দেশে এমন অসংখ্য বাবা-মা আছেন, যারা সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে বছরের পর বছর আদালত, থানা আর দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

মোস্তফা স্বপনের একটাই আবেদন— “আমার মেয়ের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন।”

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে চট্টগ্রাম হয়ে উঠল “জুলুসের শহর”, জশনে জুলুসের পাঁচ দশকের ইতিহাস

‘টাকা না দিলে রিপোর্ট আসবে না’—অভিযোগে হতাশ পরিবার

সীতাকুণ্ডে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ধর্ণা অসহায় বাবার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৪০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক অসহায় বাবা তার ২১ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যার বিচার চেয়ে প্রতিদিন প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। চোখের জল আর কণ্ঠের অসহায়তায় তিনি একটাই দাবি জানাচ্ছেন—“আমার নিরপরাধ মেয়ের ন্যায় বিচার চাই।”

অভিযোগকারী বাবা মো. মোস্তফা স্বপন সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমজিদ্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাংবাদিকদের জানান, এক বছর আগে তার মেয়ে নাজমুন নাহান প্রমা (২১)-কে একই এলাকার শাহজাহানের ছেলে মো. জামশেদ আলমের সঙ্গে বিয়ে দেন।

বিয়ের পর থেকেই প্রমা স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দেন-দরবার ও সালিশ হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

মোস্তফা স্বপনের অভিযোগ, গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১টার দিকে গোসল শেষে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেতে যাওয়ার সময় সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে শ্বশুর-শাশুড়ি প্রমার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে তার গলায় কাপড় বেঁধে ঘরের ভেতর অল্প উঁচু স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

তিনি বলেন, “আমার মেয়ের পা তখনও মাটিতে লেগে ছিল। এটা কীভাবে আত্মহত্যা হয়?”

ঘটনার পর সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে এনে হাম্মেদিয়া দীঘির পাড়ে দাফন করা হয়।

মেয়ের বাবার দাবি, “ময়নাতদন্তের পর আমি নিজ চোখে দেখেছি, আমার মেয়ের গলায় আঙুলের স্পষ্ট দাগ ছিল। তারপরও শ্বশুরবাড়ির লোকজন এটাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিচ্ছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে হতাশ হতে হয়েছে।

“আমাকে বলা হয়েছে—স্বামীর পক্ষ নাকি এক লাখ টাকা দিতে রাজি। আমি গরিব মানুষ, কোথা থেকে দেবো? তখন বলা হয়েছে, টাকা না দিলে রিপোর্ট আমার পক্ষে আসবে না।”

এই অভিযোগে চরম হতাশ মোস্তফা স্বপন বলেন, “আমি বুঝে গেছি, আমার মেয়ের হত্যার বিচার পাওয়া খুব কঠিন। তবুও আমি হার মানব না। সাংবাদিকদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছি—যদি কেউ আমার মেয়ের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সাহায্য করেন।”

স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়; ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, প্রভাব ও অর্থের কারণে যেন একটি হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা না পড়ে—সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার।

এদিকে অসহায় এই বাবার কান্না শুধু একজনের নয়—এটি সমাজে বিচারহীনতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। দেশে এমন অসংখ্য বাবা-মা আছেন, যারা সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে বছরের পর বছর আদালত, থানা আর দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

মোস্তফা স্বপনের একটাই আবেদন— “আমার মেয়ের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন।”

খালেদ / পোস্টকার্ড ;