০৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবিত প্রবাসীর মৃত সনদে দলিল রেজিষ্টারি, এসিল্যাণ্ডে নামজারির আবেদন

আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন চৌধুরী এখনো জীবিত। কিন্তু তার মৃত ওয়ারিশ সনদ দিয়ে ৫০.৮৫ শতক জায়গার দলিল করে বিক্রি করেছে একটি চক্র। দলিল করা জায়গার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ সোনাইছড়ি এলাকায়। প্রবাসী জামাল ছাড়াও ওই এলাকার একই মৌজার ১৫৭১ দাগের সাত শতক জায়গা ও বাঁশবাড়িয়া মৌজার ২৩ শতক জায়গা ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া নামজারি বাতিল করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লা আল মামুন।

তিনি বলেন, ভুয়া ও জালিয়াতি সনদ দিয়ে একটি সেন্ডিকেট চক্র সক্রিয়। ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরী করে প্রতারণার মাধ্যমে দলিল রেজিষ্টারি করে নামজারি করার চেষ্ঠা করে। কিন্তু এতে শনাক্ত হলে প্রতারক চক্রকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এসকল কাজে জীবিত প্রবাসীর মৃত সনদে দলিল রেজিষ্ট্রারি অনেক দালাল ও দলিল লেখকও জড়িত। যে সকল প্রতিষ্ঠান জায়গা ক্রয় করে তাদের সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।

গত ডিসেম্বরে এক্সপো ফ্রেইট লি: এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহাবুব আনাম দলিল মূলে নামজারি (নং-৫৭৮২/২৫) মামলা করেন। এ মামলা শুনানী তারিখ দেওয়া হয়েছে আগামি ১০ ফেব্রুয়ারি। ওয়ারিশ সনদ ও দলিল যাচাই করে কোন অনিয়ম পেলে আইনগত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার সোন- াইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সৌভন ভৌমিক জানিয়েছে জামাল উদ্দিন চৌধুরীর মৃত ওয়ারিশ সনদটি জালিয়াতি করে সৃষ্টি করা হয়েছে। নথিতে কোন রেকর্ডও নাই। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া। তবে দলিলের মোসাবিধাকারক (দলিল লেখক) এ্যডভোকেট শ্যামল বিকাশ শীল বলেন জায়গার ডকুমেন্ট দেখে দলিল করা হয়েছে। সাব রেজিস্ট্রারি অফিসে এসে দাতা গ্রহিতা রেজিষ্টারি সম্পন্ন করেছে। ওয়ারিশ সনদ ও জায়গার ডকুমেন্ট জালিয়াতি করে থাকে তাহলে দাতা-গ্রহিতাই করেছে। যদি জালিয়াতির আশ্রয় নেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ সোনাইছড়ি মৌজার ৯৮৮ খতিয়ানের ৫০.৮৫ শতক জায়গা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি করে হুমায়ন কবির রাজু নিজেকে আমেরিকা প্রবাসী জামাল উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে সেজে করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরী চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণেলহাট এলাকার জনৈক মোহাম্মদ নজরুল হায়দার চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির্মূলে ওই জায়গাগুলো হস্তান্তর করেন। গত ১০ নভেম্বর নজরুল তা এক্সপো ফ্রেইট লি: নামে একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের কাছে রেজিষ্ট্রারি দলিল (নং-৫৭৮২/২৫) মূলে বিক্রি করেন। দলিলে কারখানাটি পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহাবুব উল আনাম গ্রহিতা লেখা আছে। ওই দলিলমুলে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহাবুব উল আনাম ক্রয়কৃত দলিলমূলে সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি মোকদ্দামা করেন। নামজারি মোকাদ্দামা নং-৫৮৫৮/২৫। খবর পেয়ে আপত্তি জানায় আমেরিকা প্রবাসী জামাল উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে শাখাওয়াত হোসেন। উঠে আসে ভূমিদস্যু চক্রের নানা তথ্য।

প্রবাসীর জামাল উদ্দিন চৌধুরীর আম-মোক্তার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমেরিকায় সপরিবারে বসবাস করেন জামাল উদ্দিন চৌধুরী। তার জায়গা উপজেলার কুি মরা মসজিদ্দা এলাকার জনৈক হুমায়ন কবির রাজু নামে এক যুবক নিজেকে জামাল উদ্দিনের ছেলে দাবি করে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভূয়া মৃত ওয়ারিশ সনদে জায়গা বিক্রি করে দেন। অথচ জামাল উদ্দিন চৌধুরী এখনো পরিবার নিয়ে আমেরিকায় বসবাস করছেন। ভুয়া ওয়ারিশ সনদে জায়গা ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এক্সপো ফ্রেইট লি: এর ভূমি কর্মকর্তা গালিব মনছুর বলেন, ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি করে প্রতারণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণার শিকার হওয়ায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ভূয়া ওয়ারিশ সনদে জালিয়াতির মাধ্যমে দাতা হুময়ান কবির রাজুর বাড়িতে গিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহিতা মোহাম্মদ নজমুল হায়দার চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোন কিছু জানেন না । তিনি কখনো কোন জায়গার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেননি।

সীতাকুণ্ড সাব রেজিষ্ট্রার মোহাম্মদ রায়হান হাবীব বলেন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও দলিল রেজিষ্টারি পৃথক দলিল হয়েছে। এতে কেউ জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিলে ক্ষতিগ্রস্থরা প্রতিকার চাইলে বিধি মোতাবেক সহযোগিতা করা হবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে চট্টগ্রাম হয়ে উঠল “জুলুসের শহর”, জশনে জুলুসের পাঁচ দশকের ইতিহাস

জীবিত প্রবাসীর মৃত সনদে দলিল রেজিষ্টারি, এসিল্যাণ্ডে নামজারির আবেদন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:১৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন চৌধুরী এখনো জীবিত। কিন্তু তার মৃত ওয়ারিশ সনদ দিয়ে ৫০.৮৫ শতক জায়গার দলিল করে বিক্রি করেছে একটি চক্র। দলিল করা জায়গার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ সোনাইছড়ি এলাকায়। প্রবাসী জামাল ছাড়াও ওই এলাকার একই মৌজার ১৫৭১ দাগের সাত শতক জায়গা ও বাঁশবাড়িয়া মৌজার ২৩ শতক জায়গা ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া নামজারি বাতিল করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লা আল মামুন।

তিনি বলেন, ভুয়া ও জালিয়াতি সনদ দিয়ে একটি সেন্ডিকেট চক্র সক্রিয়। ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরী করে প্রতারণার মাধ্যমে দলিল রেজিষ্টারি করে নামজারি করার চেষ্ঠা করে। কিন্তু এতে শনাক্ত হলে প্রতারক চক্রকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এসকল কাজে জীবিত প্রবাসীর মৃত সনদে দলিল রেজিষ্ট্রারি অনেক দালাল ও দলিল লেখকও জড়িত। যে সকল প্রতিষ্ঠান জায়গা ক্রয় করে তাদের সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।

গত ডিসেম্বরে এক্সপো ফ্রেইট লি: এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহাবুব আনাম দলিল মূলে নামজারি (নং-৫৭৮২/২৫) মামলা করেন। এ মামলা শুনানী তারিখ দেওয়া হয়েছে আগামি ১০ ফেব্রুয়ারি। ওয়ারিশ সনদ ও দলিল যাচাই করে কোন অনিয়ম পেলে আইনগত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার সোন- াইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সৌভন ভৌমিক জানিয়েছে জামাল উদ্দিন চৌধুরীর মৃত ওয়ারিশ সনদটি জালিয়াতি করে সৃষ্টি করা হয়েছে। নথিতে কোন রেকর্ডও নাই। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া। তবে দলিলের মোসাবিধাকারক (দলিল লেখক) এ্যডভোকেট শ্যামল বিকাশ শীল বলেন জায়গার ডকুমেন্ট দেখে দলিল করা হয়েছে। সাব রেজিস্ট্রারি অফিসে এসে দাতা গ্রহিতা রেজিষ্টারি সম্পন্ন করেছে। ওয়ারিশ সনদ ও জায়গার ডকুমেন্ট জালিয়াতি করে থাকে তাহলে দাতা-গ্রহিতাই করেছে। যদি জালিয়াতির আশ্রয় নেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ সোনাইছড়ি মৌজার ৯৮৮ খতিয়ানের ৫০.৮৫ শতক জায়গা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি করে হুমায়ন কবির রাজু নিজেকে আমেরিকা প্রবাসী জামাল উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে সেজে করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরী চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণেলহাট এলাকার জনৈক মোহাম্মদ নজরুল হায়দার চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির্মূলে ওই জায়গাগুলো হস্তান্তর করেন। গত ১০ নভেম্বর নজরুল তা এক্সপো ফ্রেইট লি: নামে একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের কাছে রেজিষ্ট্রারি দলিল (নং-৫৭৮২/২৫) মূলে বিক্রি করেন। দলিলে কারখানাটি পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহাবুব উল আনাম গ্রহিতা লেখা আছে। ওই দলিলমুলে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহাবুব উল আনাম ক্রয়কৃত দলিলমূলে সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি মোকদ্দামা করেন। নামজারি মোকাদ্দামা নং-৫৮৫৮/২৫। খবর পেয়ে আপত্তি জানায় আমেরিকা প্রবাসী জামাল উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে শাখাওয়াত হোসেন। উঠে আসে ভূমিদস্যু চক্রের নানা তথ্য।

প্রবাসীর জামাল উদ্দিন চৌধুরীর আম-মোক্তার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমেরিকায় সপরিবারে বসবাস করেন জামাল উদ্দিন চৌধুরী। তার জায়গা উপজেলার কুি মরা মসজিদ্দা এলাকার জনৈক হুমায়ন কবির রাজু নামে এক যুবক নিজেকে জামাল উদ্দিনের ছেলে দাবি করে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভূয়া মৃত ওয়ারিশ সনদে জায়গা বিক্রি করে দেন। অথচ জামাল উদ্দিন চৌধুরী এখনো পরিবার নিয়ে আমেরিকায় বসবাস করছেন। ভুয়া ওয়ারিশ সনদে জায়গা ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এক্সপো ফ্রেইট লি: এর ভূমি কর্মকর্তা গালিব মনছুর বলেন, ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি করে প্রতারণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণার শিকার হওয়ায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ভূয়া ওয়ারিশ সনদে জালিয়াতির মাধ্যমে দাতা হুময়ান কবির রাজুর বাড়িতে গিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহিতা মোহাম্মদ নজমুল হায়দার চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোন কিছু জানেন না । তিনি কখনো কোন জায়গার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেননি।

সীতাকুণ্ড সাব রেজিষ্ট্রার মোহাম্মদ রায়হান হাবীব বলেন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও দলিল রেজিষ্টারি পৃথক দলিল হয়েছে। এতে কেউ জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিলে ক্ষতিগ্রস্থরা প্রতিকার চাইলে বিধি মোতাবেক সহযোগিতা করা হবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;