০৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জঙ্গল সলিমপুর রক্ষায় তাগাদা নোটিশ, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষায় প্রশাসনের নীরবতা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ পাহাড় কাটা, দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবিতে তাগাদা নোটিশ দিয়েছে তিনটি পরিবেশবাদী সংগঠন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম ও সৃষ্টি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, পুলিশ কমিশনার ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে এ নোটিশ পাঠায়।

নোটিশে বলা হয়, পাহাড় কাটা ও দখল বন্ধে উচ্চ আদালতের ২০১২ সালের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও জঙ্গল সলিমপুরসহ চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

২০১১ সালে বেলা দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগ পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে আদালত প্রশাসনকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ সংগঠনগুলোর।

পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সীমিত ও বিচ্ছিন্ন অভিযানের সুযোগে দখলদার চক্র পাহাড় কেটে প্লটিং, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে।

তাগাদা নোটিশে আরও বলা হয়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের হামলায় এক র‍্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনাও পাহাড় দখল ও অপরাধের যোগসূত্র স্পষ্ট করে।
বেলা’র নেটওয়ার্ক মেম্বার আলীউর রহমান বলেন, নোটিশের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আদালত অবমাননার মামলা সহ আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পরিবেশ সংগঠনগুলো অবিলম্বে পাহাড় কাটা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পাহাড়ি জমি পুনরুদ্ধার, দেশীয় বৃক্ষরোপণ এবং স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, জঙ্গল সলিমপুর ধ্বংস হলে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের এলাকায় গুরুতর পরিবেশগত বিপর্যয় অনিবার্য।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে চট্টগ্রাম হয়ে উঠল “জুলুসের শহর”, জশনে জুলুসের পাঁচ দশকের ইতিহাস

জঙ্গল সলিমপুর রক্ষায় তাগাদা নোটিশ, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষায় প্রশাসনের নীরবতা

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩০:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ পাহাড় কাটা, দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবিতে তাগাদা নোটিশ দিয়েছে তিনটি পরিবেশবাদী সংগঠন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম ও সৃষ্টি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, পুলিশ কমিশনার ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে এ নোটিশ পাঠায়।

নোটিশে বলা হয়, পাহাড় কাটা ও দখল বন্ধে উচ্চ আদালতের ২০১২ সালের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও জঙ্গল সলিমপুরসহ চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

২০১১ সালে বেলা দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগ পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে আদালত প্রশাসনকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ সংগঠনগুলোর।

পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সীমিত ও বিচ্ছিন্ন অভিযানের সুযোগে দখলদার চক্র পাহাড় কেটে প্লটিং, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে।

তাগাদা নোটিশে আরও বলা হয়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের হামলায় এক র‍্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনাও পাহাড় দখল ও অপরাধের যোগসূত্র স্পষ্ট করে।
বেলা’র নেটওয়ার্ক মেম্বার আলীউর রহমান বলেন, নোটিশের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আদালত অবমাননার মামলা সহ আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পরিবেশ সংগঠনগুলো অবিলম্বে পাহাড় কাটা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পাহাড়ি জমি পুনরুদ্ধার, দেশীয় বৃক্ষরোপণ এবং স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, জঙ্গল সলিমপুর ধ্বংস হলে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের এলাকায় গুরুতর পরিবেশগত বিপর্যয় অনিবার্য।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;