১০:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালু উত্তোলনে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা, সীতাকুণ্ডের বেড়িবাঁধ রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা সমুদ্র উপকূলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এলাকাবাসীর কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা এবং এর প্রতিবাদে রোববার দুপুরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে । ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে আলোকদিয়া গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলামকে এ বিষয়ে স্মারকলিপিও দেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, বড় কুমিরা সমুদ্র উপকূল সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে উপজেলা সদরে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং বেড়িবাঁধ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্র উপকূল ও বেড়িবাঁধের পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ ও বেড়িবাঁধের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এতে জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় উল্টো প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

বক্তারা আরও বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বড় কুমিরা ও আশপাশের এলাকার বসতভিটা ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বেড়িবাঁধ রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেন এবং দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

নৌ পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ ডিসেম্বর আলেকদিয়া গ্রাম এলাকায় সাগর উপকূলে একটি ড্রেজার ও বাল্কহেড নিয়ে আসা হয়। এ সময় ড্রেজারটি দিয়ে বালু তোলার প্রস্তুতি চলছে—এমন খবর এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ওই ড্রেজার ও বাল্কহেডে আগুন দেন। এ ঘটনায় পরদিন ১০ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ জনকে আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা হয়। মামলার পর পুলিশ আলেকদিয়া থেকে এক বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে। এর পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, মানুষের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় এভাবে নির্বিচার বালু তোলা অব্যাহত থাকলে বাসিন্দারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বাল্কহেড পোড়ানোর মামলার প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, মামলার পর পুরুষেরা রাতে ঘরে থাকতে পারছেন না। আমরা অবিলম্বে এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, মামলাটির এখনো তদন্ত চলছে। মামলার কারণে নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না।

অন্যদিকে বালু উত্তোলন বন্ধে নৌ পুলিশের অভিযান চালিয়েছে । সীতাকুণ্ডের সাগর উপকূলে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযানে চারটি ড্রেজার ও সাতটি বাল্কহেড আটক করা হয়। পরে এসব ড্রেজার ও বাল্কহেডের বিষয়ে মামলা করে নৌ পুলিশ।

কুমিরা নৌ পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ ওয়ালি উদ্দিন আকবরবলেন, উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ ও অনুমোদনহীন বাল্কহেড ও ড্রেজারের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

আইয়্যামে জাহেলিয়তের অন্ধকার থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন প্রিয় নবী (দ.): কাগতিয়া দরবারে ৭৩তম জশ্‌নে জুলুছ মাহফিলে বক্তারা

বালু উত্তোলনে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা, সীতাকুণ্ডের বেড়িবাঁধ রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:২৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা সমুদ্র উপকূলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এলাকাবাসীর কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা এবং এর প্রতিবাদে রোববার দুপুরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে । ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে আলোকদিয়া গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলামকে এ বিষয়ে স্মারকলিপিও দেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, বড় কুমিরা সমুদ্র উপকূল সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে উপজেলা সদরে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং বেড়িবাঁধ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্র উপকূল ও বেড়িবাঁধের পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ ও বেড়িবাঁধের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এতে জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় উল্টো প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

বক্তারা আরও বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বড় কুমিরা ও আশপাশের এলাকার বসতভিটা ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বেড়িবাঁধ রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেন এবং দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

নৌ পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ ডিসেম্বর আলেকদিয়া গ্রাম এলাকায় সাগর উপকূলে একটি ড্রেজার ও বাল্কহেড নিয়ে আসা হয়। এ সময় ড্রেজারটি দিয়ে বালু তোলার প্রস্তুতি চলছে—এমন খবর এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ওই ড্রেজার ও বাল্কহেডে আগুন দেন। এ ঘটনায় পরদিন ১০ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ জনকে আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা হয়। মামলার পর পুলিশ আলেকদিয়া থেকে এক বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে। এর পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, মানুষের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় এভাবে নির্বিচার বালু তোলা অব্যাহত থাকলে বাসিন্দারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বাল্কহেড পোড়ানোর মামলার প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, মামলার পর পুরুষেরা রাতে ঘরে থাকতে পারছেন না। আমরা অবিলম্বে এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, মামলাটির এখনো তদন্ত চলছে। মামলার কারণে নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না।

অন্যদিকে বালু উত্তোলন বন্ধে নৌ পুলিশের অভিযান চালিয়েছে । সীতাকুণ্ডের সাগর উপকূলে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযানে চারটি ড্রেজার ও সাতটি বাল্কহেড আটক করা হয়। পরে এসব ড্রেজার ও বাল্কহেডের বিষয়ে মামলা করে নৌ পুলিশ।

কুমিরা নৌ পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ ওয়ালি উদ্দিন আকবরবলেন, উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ ও অনুমোদনহীন বাল্কহেড ও ড্রেজারের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;