চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কদম রসুল ও কেশবপুর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কারবারের প্রতিবাদ করায় গঠিত মাদকবিরোধী কমিটির ছয় সদস্যকে মিথ্যা অপহরণ মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বন্দিদের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ) বিকেল ৫টায় সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কারাবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, এলাকায় ওপেন মাদক বিক্রি ও মাদকের ছড়াছড়ি বেড়ে যাওয়ায় সচেতন নাগরিকরা একটি মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করেন। গত ২ সেপ্টেম্বর কদম রসুল এলাকায় গন্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয় এবং স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মাদক বিক্রেতাদের বাড়ি তল্লাশী করে মদ ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট করা হয়। এতে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই দিনই মানববন্ধন শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাদক বিক্রেতারা কমিটির লোকজনের ওপর গুপ্ত হামলা চালায়। পরবর্তীতে উল্টো মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়, যার জেরে কমিটির ছয়জন নিরপরাধ সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জোৎস্না নামের এক মাদক বিক্রেতা ও তার পরিবার এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হলেও মাদকের প্রতিবাদ করায় যদি উল্টো মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ আর কখনো মাদকের বিরুদ্ধে মুখ খুলবে না, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা কারাবন্দী ছয়জন হলেন—কদম রসুল গ্রামের আহসান – পিতা: হোসেন, নুরুদ্দিন – পিতা: হোসেন, সাদ্দাম নিজামী – পিতা: উজ্জ্বল নিজামী, শহীদ – মাতা: হাসিনা), আহসান হাবিব -পিতা: নুরুল আলম এবং সায়েদুল – পিতা: সফি।
সংবাদ সম্মেলনে আটককৃতদের পিতা-মাতাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের সন্তানদের দ্রুত জামিনে মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;