অনলাইন জুয়ার নেশায় জড়িয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে থাকা এক যুবক ঋণ পরিশোধ করতে নিজেই নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে ওই যুবককে জীবিত উদ্ধার করেছে র্যাব-৭।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মো. আরিফুর রহমান (২৯) জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার শান্তা গ্রামের সামছুল আজমের ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকার ভাটারা এলাকায় থেকে ফুটপাতে জামাকাপড়ের ব্যবসা করতেন। যেভাবে
র্যাব জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে ব্যবসা করার সময় বিকাশে টাকা ক্যাশ আউট করার কথা বলে নিখোঁজ হন আরিফ। দীর্ঘক্ষণ তিনি ফিরে না আসায় এবং তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় বিষয়টি তার বন্ধু পরিবারকে জানান। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর আরিফের নম্বর থেকেই তার ভাইয়ের মোবাইলে কল করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। এই ঘটনায় আরিফের ভাই ঢাকার ভাটারা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে জানতে পারে যে, তথাকথিত ‘অপহৃত’ আরিফ আসলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থান করছেন। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে ভাটিয়ারীর মেসার্স রাকিব ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ স্বীকার করেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়া খেলে দুই থেকে তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই জঘন্য ঋণ শোধ করার জন্যই তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করে অপহরণের এই অভিনব নাটক সাজিয়েছিলেন এবং পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
উদ্ধারকৃত আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, উদ্ধার করা আরিফুরকে ভাটারা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;