শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা তখনই প্রকাশ পায়, যখন মানুষের কর্ম ও মেধার মাধ্যমে অন্যদের জীবন আরও সুন্দর, সমৃদ্ধ ও সহজ হয়ে ওঠে। তাই শিক্ষাজীবন শেষে অর্জিত জ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তিকে দেশ ও মানবকল্যাণে উৎসর্গ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) গাজীপুরে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’র (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের এখন এমন মানবসম্পদ প্রয়োজন, যারা দেশের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারবেন এবং নিজেদের মেধা ব্যবহার করে দেশের জটিল সমস্যাগুলোর সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান তৈরি করবেন।”
বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও ব্যয়বহুল প্রযুক্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নত প্রকৌশল বিদ্যার মাধ্যমে মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতি বিশেষ জোর দেন তিনি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
আইইউটির আন্তর্জাতিক পরিবেশের প্রশংসা করে ড. মিলন বলেন, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে এখানে এসে শিক্ষার অভিন্ন পরিবেশ পান। এতে পারস্পরিক যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে, তা ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী গবেষণা, শিল্প ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী অংশীদারত্ব সৃষ্টি করবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ। মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর এই অর্জনের নেপথ্যে অভিভাবকদের ত্যাগ ও ভালোবাসা লুকিয়ে রয়েছে। আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ওআইসি-র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব রাষ্ট্রদূত আফতাব আহমেদ খোখোরসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃতী শিক্ষার্থীদের পদক প্রদান:
এবারের সমাবর্তনে ওআইসির ১৬টি সদস্যদেশের মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য ৭ জন গ্র্যাজুয়েটকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী গৌরবময় ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেন। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন অন্যান্য শিক্ষার্থীদের গলায় পদক পরিয়ে দেন এবং সনদপত্র তুলে দেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;