সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা কারখানা থেকে দুই নিরাপত্তা প্রহরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ( ৫ জানুয়ারি ) সকালে উপজেলার কুমিরা নৌঘাট সংলগ্ন সাগর উপকূলে অবস্থিত তসলিম উদ্দিনের মালিকানাধীন কে, আর শিপ রিসাইক্লিং নামক জাহাজভাঙ্গা কারখানা থেকে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
জাহাজভাঙা কর্তৃপক্ষের দাবি, রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল কাটিং এর জন্য সাগর উপকূল এনে রাখা স্ক্যাপ জাহাজের মালামাল লুটের চেষ্টাকালে নিরাপত্তা প্রহরীরা বাধা দেয়। এসময় ডাকাতদলের হামলায় দুই নিরাপত্তা প্রহরী নিহত হয়। অন্যদিকে রাতের আঁধারে স্ক্যাপ জাহাজের কাটিং কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় দু’শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে শিপব্রেকিং ওয়াকার্স ট্রেড ইউনিয়ন ফোরাম। দুর্ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ডাকাতির নাটক সাজানো হয়েছে বলেও দাবি তাদের। তবে প্রাথমিক ধারণায় এটি ডাকাতির ঘটনা বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
ডাকাতের হামলায় নিহত দুই নিরাপত্তা প্রহরী হলেন, মো. খালেদ প্রমাণিক ও মো. সাইফুল্লাহ। তাদের দু’জনের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর সদর থানার আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। তারা সীতাকুণ্ডের কুমিরা নৌঘাট এলাকার কেআর শিপ মেকিং নামক জাহাজভাঙা কারখানায় নিরাপত্তা প্রহরী হিসাবে চাকরি করতেন।
কে আর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের ম্যানেজার আবু সাজ্জাদ মুন্না বলেন, রবিবার দুপুরে কাটিং এর জন্য জাহাজভাঙা কারখানায় একটি স্ক্যাপ জাহাজ আনা হয়। রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ২০-২৫ জনের মুখোশধারী একদল সংঘবদ্ধ ডাকাত দুটি ইঞ্জিন চালিত বোট নিয়ে কারখানা সংলগ্ন সাগর উপকূলে রাখা ওই স্ক্র্যাপ জাহাজের মালামাল লুটে নিতে হানা দেয়। এই সময় জাহাজ ভাঙ্গা কারখানায় দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরীরা বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতদল তাদের উপর হামলা চালায়। এতে দুই নিরাপত্তা প্রহরী নিহত হয়। সোমবার (গতকাল) সকালে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
কে আর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের মালিক তসলিম উদ্দিন জানান, তাদের জাহাজভাঙা কারখানায় এর আগেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল জাহাজের মালামাল লুট করে নিতে গতকাল রাতেও পূর্বের মতো হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এতে ডাকাত দলের হামলায় তার জাহাজ ভাঙ্গা কারখানায় কর্মরত দুই নিরাপত্তা প্রহরী নিহত হয়েছে।
ডাকাতির বিষয়টি সাজানো নাটক বলে দাবি করেন শিপব্রেকিং ওয়ার্কার্স ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত। তিনি জানান, রাতের আঁধারে সাগর উপকূলে আনা স্ক্যাপ জাহাজের কাটিং কাজ করছিলেন জাহাজ ভাঙ্গা কারখানা কর্তৃপক্ষ। কাটিং কাজ চলাকালে দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে থাকা দু’জনেররানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সঠিক রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি নিহত দু’জনের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও দাবি জানান।
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, জাহাজভাঙ্গা কারখানা থেকে নিহত দুই নিরাপত্তা প্রহরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে নিহত একজনের হাত, পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। ডাকাতির চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ডাকাত দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তিনি। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে হত্যার সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















