০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ত্র ঠেকিয়ে সীতাকুণ্ডে খামার থেকে ১২ গরু লুট

অস্ত্র ঠেকিয়ে সীতাকুণ্ডে খামার থেকে ১২ গরু লুট

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি গরুর খামারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে খামারমালিককে বেঁধে রেখে ডাকাত দল ১২টি গরু লুট করে নিয়ে গেছে। যার মূল্য ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন উত্তর বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ইসমাইল হোসেনের মালিকানাধীন ‘এন আই এগ্রো ফার্মে’ এ ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য যে, স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় চার বছর আগে চাকরি ছেড়ে গরুর খামার গড়ে তুলেছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম। খামারে ছিল ১৫ লাখ টাকা দামের ১৩টি গরু। খামারের গরু ও গরুর দুধ বিক্রি করে লাভের মুখও দেখছিলেন। কিন্তু এক রাতেই তাঁর সব শেষ হয়ে গেল ।

সোমবার ( ২৯ ডিসেম্বর ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মাইলের মাথা এলাকায় তাঁর গড়ে তোলা ‘এন আই’ অ্যাগ্রো নামের খামারে হঠাৎ হানা দেয় ডাকাতের দল। এ সময় খামারে থাকা খামার মালিক ও লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটে নেয় ১২টি গরু।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ড থানায় ডাকাতির মামলা করেছেন। তবে পুলিশ এখনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

খামারি নজরুলের স্বজনরা জানান, একেবারেই ভেঙে পড়েছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা। একটি মোটরসাইকেল কোম্পানির চট্টগ্রাম জেলার ব্যবস্থাপক ছিলেন তিনি। চার বছর আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর নিজ এলাকায় গরুর খামার গড়ে তোলেন। প্রতিবছর ঈদুল আজহায় তিনি গরু বিক্রি করতেন। পরে আবার নতুন করে গরু কিনতেন। এ ছাড়া তাঁর কয়েকটি গাভি ছিল। এসব গাভির দুধ বিক্রিও ছিল তাঁর আয়ের উৎস।

খামারে থাকা নজরুলের চাচা ইসমাইল হোসেন ডাকাতির ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘খামারে ২০-২৫ জন ডাকাত মুখ বেঁধে প্রবেশ করে। তাদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র ছিল। ডাকাতেরা আমার দুটি হাত পেছনে বেঁধে ঘর থেকে বাইরে এনে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর আমার চোখের সামনে গরুগুলো গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়। আমি অনেক কষ্টে বাড়িতে আসি। এরপর হাতের বাঁধন খোলার পর ঘটনাটা পরিবারের সদস্যদের বলি। পুলিশের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি বিভিন্ন থানায় খুদেবার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গরু উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি ।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে চট্টগ্রাম হয়ে উঠল “জুলুসের শহর”, জশনে জুলুসের পাঁচ দশকের ইতিহাস

অস্ত্র ঠেকিয়ে সীতাকুণ্ডে খামার থেকে ১২ গরু লুট

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৪২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি গরুর খামারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে খামারমালিককে বেঁধে রেখে ডাকাত দল ১২টি গরু লুট করে নিয়ে গেছে। যার মূল্য ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন উত্তর বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ইসমাইল হোসেনের মালিকানাধীন ‘এন আই এগ্রো ফার্মে’ এ ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য যে, স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় চার বছর আগে চাকরি ছেড়ে গরুর খামার গড়ে তুলেছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম। খামারে ছিল ১৫ লাখ টাকা দামের ১৩টি গরু। খামারের গরু ও গরুর দুধ বিক্রি করে লাভের মুখও দেখছিলেন। কিন্তু এক রাতেই তাঁর সব শেষ হয়ে গেল ।

সোমবার ( ২৯ ডিসেম্বর ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মাইলের মাথা এলাকায় তাঁর গড়ে তোলা ‘এন আই’ অ্যাগ্রো নামের খামারে হঠাৎ হানা দেয় ডাকাতের দল। এ সময় খামারে থাকা খামার মালিক ও লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটে নেয় ১২টি গরু।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ড থানায় ডাকাতির মামলা করেছেন। তবে পুলিশ এখনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

খামারি নজরুলের স্বজনরা জানান, একেবারেই ভেঙে পড়েছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা। একটি মোটরসাইকেল কোম্পানির চট্টগ্রাম জেলার ব্যবস্থাপক ছিলেন তিনি। চার বছর আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর নিজ এলাকায় গরুর খামার গড়ে তোলেন। প্রতিবছর ঈদুল আজহায় তিনি গরু বিক্রি করতেন। পরে আবার নতুন করে গরু কিনতেন। এ ছাড়া তাঁর কয়েকটি গাভি ছিল। এসব গাভির দুধ বিক্রিও ছিল তাঁর আয়ের উৎস।

খামারে থাকা নজরুলের চাচা ইসমাইল হোসেন ডাকাতির ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘খামারে ২০-২৫ জন ডাকাত মুখ বেঁধে প্রবেশ করে। তাদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র ছিল। ডাকাতেরা আমার দুটি হাত পেছনে বেঁধে ঘর থেকে বাইরে এনে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর আমার চোখের সামনে গরুগুলো গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়। আমি অনেক কষ্টে বাড়িতে আসি। এরপর হাতের বাঁধন খোলার পর ঘটনাটা পরিবারের সদস্যদের বলি। পুলিশের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি বিভিন্ন থানায় খুদেবার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গরু উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি ।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;