০৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সীতাকুণ্ডে ফোজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ১০০% সাফল্য, পিছিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল। চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে সীতাকুণ্ড উপজেলার মোট ৩৩টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শতভাগ পাসের গৌরব ও সর্বাধিক জিপিএ-৫ অর্জন করে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। অন্যদিকে উপজেলার বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পাসের হার সন্তোষজনক হলেও অনেক বিদ্যালয়েই অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল আশঙ্কাজনক।

🏆 শীর্ষে থাকা ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

১. ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ: ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ (১০০%) উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ জনই পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫।

২. বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়: ৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ জন পাস করেছে (পাসের হার ৯৫.৩১%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন।

৩. মোহাম্মদ আবুল কাশেম রাজা উচ্চ বিদ্যালয়: ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮ জন পাস করেছে (পাসের হার ৮২.৭৬%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

৪. ফৌজদারহাট কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়: ১৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩৭ জন পাস করেছে (পাসের হার ৮২.৫৩%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন।

৫. সবুজ শিক্ষায়তন: ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৪ জন পাস করেছে (পাসের হার ৭৭.১১%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

🏫 অন্যান্য প্রধান বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল

  • সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: সর্বমোট ৩০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৬ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৪.৩৪% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন শিক্ষার্থী।
  • সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: ১৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৬ জন (পাসের হার ৫০.৩৩%) এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন।
  • ফৌজদারহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়: ১৭২ জনের মধ্যে ১০০ জন পাস করেছে (পাসের হার ৫৮.১৪%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
  • কুমিরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ২১০ জনের মধ্যে ১২৩ জন পাস করেছে (পাসের হার ৫৮.৫৭%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন।

⚠️ পাসের হারে সর্বনিম্নে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো

তালিকার একদম তলানীতে রয়েছে কয়েকটি স্কুল, যেখানে অর্ধেকের বেশি পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে:

  • বাড়বকুন্ড উচ্চ বিদ্যালয়: ১৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৫৪ জন, যার পাসের হার সর্ব সর্বনিম্ন ৩২.৭৩%
  • আর আর টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়: ৬৪ জনের মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৩৯.০৪%), কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
  • ভাটেরখিল উচ্চ বিদ্যালয়: ৪৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৮ জন (পাসের হার ৩৯.১৩%), কোনো জিপিএ-৫ নেই।
  • মাদামবিবির হাট উচ্চ বিদ্যালয়: ২২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৯৮ জন উত্তীর্ণ হতে পেরেছে (পাসের হার ৪৩.১৭%)।

📊 সামগ্রিক চিত্র ও প্রতিক্রিয়া

ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, সীতাকুণ্ডের মোট ৩৩টি স্কুলের মধ্যে ৪টি স্কোলে শতভাগ বা ৯০%-এর উপরে সাফল্য থাকলেও অধিকাংশ স্কুলে পাসের হার ৫০% থেকে ৭০%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগের অভাব এবং গুণগত শিক্ষার সঠিক চর্চা না থাকায় বেশ কিছু স্কুলে পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ: শীর্ষে খাজা কালু শাহ্ মাদ্রাসা, জিপিএ-৫ এ এগিয়ে মোহম্মদিয়া আহমাদিয়া

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সীতাকুণ্ডে ফোজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ১০০% সাফল্য, পিছিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১২:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল। চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে সীতাকুণ্ড উপজেলার মোট ৩৩টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শতভাগ পাসের গৌরব ও সর্বাধিক জিপিএ-৫ অর্জন করে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। অন্যদিকে উপজেলার বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পাসের হার সন্তোষজনক হলেও অনেক বিদ্যালয়েই অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল আশঙ্কাজনক।

🏆 শীর্ষে থাকা ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

১. ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ: ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ (১০০%) উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ জনই পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫।

২. বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়: ৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ জন পাস করেছে (পাসের হার ৯৫.৩১%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন।

৩. মোহাম্মদ আবুল কাশেম রাজা উচ্চ বিদ্যালয়: ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮ জন পাস করেছে (পাসের হার ৮২.৭৬%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

৪. ফৌজদারহাট কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়: ১৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩৭ জন পাস করেছে (পাসের হার ৮২.৫৩%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন।

৫. সবুজ শিক্ষায়তন: ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৪ জন পাস করেছে (পাসের হার ৭৭.১১%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।

🏫 অন্যান্য প্রধান বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল

  • সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: সর্বমোট ৩০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৬ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৪.৩৪% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন শিক্ষার্থী।
  • সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: ১৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৬ জন (পাসের হার ৫০.৩৩%) এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন।
  • ফৌজদারহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়: ১৭২ জনের মধ্যে ১০০ জন পাস করেছে (পাসের হার ৫৮.১৪%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
  • কুমিরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ২১০ জনের মধ্যে ১২৩ জন পাস করেছে (পাসের হার ৫৮.৫৭%), জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন।

⚠️ পাসের হারে সর্বনিম্নে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো

তালিকার একদম তলানীতে রয়েছে কয়েকটি স্কুল, যেখানে অর্ধেকের বেশি পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে:

  • বাড়বকুন্ড উচ্চ বিদ্যালয়: ১৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৫৪ জন, যার পাসের হার সর্ব সর্বনিম্ন ৩২.৭৩%
  • আর আর টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়: ৬৪ জনের মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৩৯.০৪%), কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
  • ভাটেরখিল উচ্চ বিদ্যালয়: ৪৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৮ জন (পাসের হার ৩৯.১৩%), কোনো জিপিএ-৫ নেই।
  • মাদামবিবির হাট উচ্চ বিদ্যালয়: ২২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৯৮ জন উত্তীর্ণ হতে পেরেছে (পাসের হার ৪৩.১৭%)।

📊 সামগ্রিক চিত্র ও প্রতিক্রিয়া

ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, সীতাকুণ্ডের মোট ৩৩টি স্কুলের মধ্যে ৪টি স্কোলে শতভাগ বা ৯০%-এর উপরে সাফল্য থাকলেও অধিকাংশ স্কুলে পাসের হার ৫০% থেকে ৭০%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগের অভাব এবং গুণগত শিক্ষার সঠিক চর্চা না থাকায় বেশ কিছু স্কুলে পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;