০৩:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বদেশে ফেরার আকুতি: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর

আমিনুল ইসলাম, কক্সবাজার।।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে। এ সময় আশ্রিত রোহিঙ্গারা নিজ ভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের আকুতি জানিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিনব্যাপী উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ওয়েস্ট, ক্যাম্প-৬ ও ক্যাম্প-৪ এর বিভিন্ন কার্যক্রম ও স্থাপনা ঘুরে দেখে ৮ সদস্যের এই প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর এরিক জিলান, বিশেষ দূতের সিনিয়র উপদেষ্টা চার্লস হর্টন ও চেস্টার ক্রোগার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস অসবর্ন ও ইয়ান ডিক এবং ভিআইপি ভিজিট কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আহসান।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্ল্যাকার্ডে আকুতি

সফরের শুরুতে প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের এ/৫৮ ব্লকের ওয়াচ টাওয়ারে গিয়ে ক্যাম্পের সার্বিক পরিবেশ ও রোহিঙ্গা শেল্টারগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল—‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’, ‘শরণার্থী জীবন আর নয়, নিজ ভূমিতে ফিরতে চাই’ ইত্যাদি। প্রায় ৬০ জন রোহিঙ্গা শান্তিপূর্ণভাবে এই প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে রাখাইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তির বার্তা পৌঁছে দেন।

স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন

ওয়াচ টাওয়ার পরিদর্শনের পর প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৬ এর এ ব্লকে অবস্থিত আইআরসি হেলথ সেন্টার এবং ক্যাম্প-৪ এর ব্লক-১ এ অবস্থিত ই-ভাউচার ডাটা সেন্টার ও এলপিজি বিতরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা ক্যাম্পের স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন।

আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন হ্রাসের ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন উচ্চপর্যায়ের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রতিনিধি দল ক্যাম্পের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র মূল্যায়ন করতেই মূলত এই সফর করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট সমাধানে এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম প্রধান দাতা দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ

অর্থ আত্মসাৎ’র অভিযোগে সীতাকুণ্ডে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

স্বদেশে ফেরার আকুতি: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

আমিনুল ইসলাম, কক্সবাজার।।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে। এ সময় আশ্রিত রোহিঙ্গারা নিজ ভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের আকুতি জানিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিনব্যাপী উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ওয়েস্ট, ক্যাম্প-৬ ও ক্যাম্প-৪ এর বিভিন্ন কার্যক্রম ও স্থাপনা ঘুরে দেখে ৮ সদস্যের এই প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর এরিক জিলান, বিশেষ দূতের সিনিয়র উপদেষ্টা চার্লস হর্টন ও চেস্টার ক্রোগার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস অসবর্ন ও ইয়ান ডিক এবং ভিআইপি ভিজিট কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আহসান।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্ল্যাকার্ডে আকুতি

সফরের শুরুতে প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের এ/৫৮ ব্লকের ওয়াচ টাওয়ারে গিয়ে ক্যাম্পের সার্বিক পরিবেশ ও রোহিঙ্গা শেল্টারগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল—‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’, ‘শরণার্থী জীবন আর নয়, নিজ ভূমিতে ফিরতে চাই’ ইত্যাদি। প্রায় ৬০ জন রোহিঙ্গা শান্তিপূর্ণভাবে এই প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে রাখাইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তির বার্তা পৌঁছে দেন।

স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন

ওয়াচ টাওয়ার পরিদর্শনের পর প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৬ এর এ ব্লকে অবস্থিত আইআরসি হেলথ সেন্টার এবং ক্যাম্প-৪ এর ব্লক-১ এ অবস্থিত ই-ভাউচার ডাটা সেন্টার ও এলপিজি বিতরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা ক্যাম্পের স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন।

আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন হ্রাসের ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন উচ্চপর্যায়ের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রতিনিধি দল ক্যাম্পের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র মূল্যায়ন করতেই মূলত এই সফর করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট সমাধানে এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম প্রধান দাতা দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;