দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে আগামী ১০ বছরের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা খুব শীঘ্রই জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দিনব্যাপী ব্যস্ত সফরসূচির অংশ হিসেবে বাঁশখালীর বাহারছড়ায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এ কথা জানান। জনসভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অতীতের অপরিকল্পিত ব্যবস্থার কারণে কিছু ব্যক্তি লাভবান হলেও জনগণ বঞ্চিত হয়েছে। সে ব্যবস্থার সংস্কার করতে কিছু সময় প্রয়োজন। বিশৃঙ্খলা না করে কারও কাছে বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে পেশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অহেতুক অপপ্রচার চালিয়ে মানুষের শান্তি নষ্ট করা যাবে না। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এখন পেছনের দিকে তাকানোর সময় নেই, বরং মূল লক্ষ্য হতে হবে জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন। বিএনপি সরকারের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ উল্লেখ করে তিনি জানান, বিএনপির জনকল্যাণমুখী প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
এর আগে সকালে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রকল্প এলাকার সার্বিক অগ্রগতি, পরিচালন দক্ষতা, কয়লা খালাস, এলএনজি/এলপিজি টার্মিনাল এবং ভবিষ্যৎ ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট স্থাপনের স্থান ঘুরে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেন।
পরবর্তীতে বঙ্গোপসাগরের বিশাল সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগিয়ে মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প-কারখানা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
বাঁশখালীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। একই সাথে দুস্থ নারীদের সহায়তার অংশ হিসেবে আগামী চার বছরে সারাদেশে ৪১ লাখ এবং বাঁশখালীতে ১০-১২ হাজার পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন।
লবণচাষিদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে শিগগিরই লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের আশ্বাসও দেন তিনি। সফরের এ পর্যায়ে সুসজ্জিত পালকিতে চড়ে আসা ‘আলিফা আক্তার’ নামের এক সাজুগুজু করা ছোট শিশু পুরো জনসভার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির পাইন্দং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দেশ পরিচালনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে দোয়া চান।
সাক্ষাৎকালে হেফাজতের পক্ষ থেকে মহাসচিব সাজেদুর রহমানের সই করা ৯ দফা স্মারকলিপি পেশ করা হয়; যার মধ্যে ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ, কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন না করা, শাপলা চত্বর ও ২০২৪-এর হত্যাকাণ্ডের বিচার, কওমি সনদের স্বীকৃতি কার্যকর এবং প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ইসলাম ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ফটিকছড়ি সফর শেষে সড়কপথে হাটহাজারী মাদরাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর সন্ধ্যায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জনগণ নির্বাচনে বিএনপির ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে। যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, তাদেরকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দিনশেষে রাতে নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং নগর বিএনপির প্রায় ৬০০ আমন্ত্রিত দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের নিয়ে এক বিশেষ সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















