মাত্র ৫৬ দিনের মাথায়ে উপাচার্য বদলের আকস্মিক আদেশে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। দুই বছরেরও কম সময়ে তৃতীয় উপাচার্য হিসেবে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে ও পূর্বের ভিসিকে বহাল রাখার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ পরিবর্তন এলেও তা একাডেমিক কার্যক্রমে অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি করেছে।
রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী চার বছরের জন্য নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলেও পদ্ধতিগত ও আকস্মিক এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ ক্যাম্পাসের ছাত্রসমাজ। গত ২৭ জুলাই চার বছরের জন্য দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থানকালে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর অপসারণের খবর জানতে পারেন। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। ঘন ঘন শীর্ষ নেতৃত্ব বদলের এই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এদিকে নতুন নিয়োগ পাওয়া ড. শেখ শরীফুল আলম এর আগে কুয়েটের উপ–উপাচার্য ছিলেন। গত এপ্রিলে কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও অনশনের মুখে তৎকালীন শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁকেও পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। সেই পটপরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই চুয়েটের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে তাঁর অভিষেক নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে চার বছর বা বয়সসীমা পর্যন্ত মেয়াদের কথা বলা হলেও সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান ও পদসংশ্লিষ্ট সুবিধার শর্ত রয়েছে।
হঠাৎ উপাচার্য পরিবর্তনের খবরে চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা সমঝোতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষার গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পালাবদলের অতি দ্রুততা সুস্থ অ্যাকাডেমিক পরিবেশ ব্যাহত করে। তাই শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে দ্রুত সংলাপ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
খালেদ । পোস্টকার্ড ;