পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলা, হয়রানিমূলক মামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও সাইবার আক্রমণের মুখে পড়ছেন সংবাদকর্মীরা। মুক্ত গণমাধ্যমের স্বার্থে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে)।
বিদায়ী জুলাই মাসে দেশজুড়ে অন্তত ৬৪ জন সংবাদকর্মী হামলা, মামলা, হুমকি ও পেশাগত কাজে বাধার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭ জন সরাসরি শারীরিক হামলায় আহত হয়েছেন, ১২ জন আইনি হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন এবং ১৫ জন হুমকি ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এছাড়া একটি গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার (০৩ আগস্ট ২০২৬) সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে। দেশের মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ ও সংগঠনের নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
শারীরিক হামলায় আহত ৩৭ জন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে ২৯টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ৩৭ জন সাংবাদিক আহত হন। রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এসব হামলার অভিযোগ ওঠে।
উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কুয়াকাটায় ছাত্রদলের হাতে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের লাঠিপেটায়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিডিও ধারণের সময় এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হামলায় সাংবাদিকদের আহত ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা। এছাড়া কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সাংবাদিকের কার্যালয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মারধর করে নদীতে ফেলে হত্যাচেষ্টা, বেনাপোলে সন্ত্রাসী হামলা এবং খুলনায় আড্ডারত সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলি চালানোর ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আইনি হয়রানির শিকার ১২ জন
সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে মানহানি, চাঁদাবাজি ও নাশকতার মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিএজে।
জুলাইয়ে কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপির এক নেতার করা এক হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলায় এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা-ভাঙচুরের মামলায় দুই সাংবাদিককে আসামি করা এবং গাজীপুরে জমি দখলের সংবাদের জেরে সাংবাদিক ও তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।
হুমকি, বাধা ও সাইবার হামলা
সংগঠনটি জানায়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অন্তত ১৫ জন সংবাদকর্মী গালিগালাজ, অবরুদ্ধ করে রাখা এবং ধারণকৃত তথ্য মুছে ফেলার মতো হেনস্তার শিকার হন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ওয়ান’-এর ফেসবুক পেজে পরিকল্পিত সাইবার হামলা চালানো হয়। ভুয়া কপিরাইট দাবি ও সমন্বিত রিপোর্ট করার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রতিবেদনটি সরিয়ে দেওয়া হয় বলে বিএজে জানায়।
বিএজের উদ্বেগ ও দাবি
সংগঠনটি বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, হুমকি ও সাইবার হয়রানি দেশের মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য অশনিসংকেত। রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















