০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশখালীতে টার্মিনাল দুর্ঘটনা, চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন ও শিল্প খাত বিপর্যস্ত

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি (FSRU) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির জেরে চট্টগ্রামজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। এতে নগরীর লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন, পরিবহন খাত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে এসেছে স্থবিরতা।

কার্নাফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে চট্টগ্রামে প্রতিদিন কয়েক কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাসাবাড়িতে দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না, ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করছে।

শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে, কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখারও খবর পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এ সংকট চলতে থাকলে রপ্তানি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে গ্যাস সংকটের প্রভাবে চট্টগ্রামের অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে গণপরিবহন সংকটের পাশাপাশি যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে গ্যাসের চাপ একেবারেই থাকে না। শিশু, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করলেও অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহে একক উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই এলএনজি টার্মিনালের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিকল্প গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং পূর্ণাঙ্গ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ে দেশের ৬৪ সংবাদকর্মী হামলা, মামলা ও হুমকির শিকার: বিএজে

মহেশখালীতে টার্মিনাল দুর্ঘটনা, চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন ও শিল্প খাত বিপর্যস্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি (FSRU) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির জেরে চট্টগ্রামজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। এতে নগরীর লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন, পরিবহন খাত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে এসেছে স্থবিরতা।

কার্নাফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে চট্টগ্রামে প্রতিদিন কয়েক কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাসাবাড়িতে দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না, ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করছে।

শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে, কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখারও খবর পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এ সংকট চলতে থাকলে রপ্তানি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে গ্যাস সংকটের প্রভাবে চট্টগ্রামের অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে গণপরিবহন সংকটের পাশাপাশি যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে গ্যাসের চাপ একেবারেই থাকে না। শিশু, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করলেও অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহে একক উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই এলএনজি টার্মিনালের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিকল্প গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং পূর্ণাঙ্গ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;