চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জনপদ এখন এক ধ্বংসস্তূপের নাম। পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গেছে হাজারো মানুষের সাজানো স্বপ্ন। তবে সব হারানোর হাহাকারের মাঝেও দমে নেই এ অঞ্চলের মানুষ; ক্ষতবিক্ষত সড়ক আর পানি মাড়িয়ে তারা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমলেও রেখে গেছে ধ্বংসের দীর্ঘ চিহ্ন। সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে ৩৭ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা যাতায়াত ব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শুধু সড়ক নয়, ফসলি জমি, মৎস্য খামার আর ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অসংখ্য পরিবার।
অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে এখন মরণফাঁদ। সলিমপুর থেকে বড় দারোগারহাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল করছে চরম ঝুঁকিতে।
পাহাড়ি ঢল কেড়ে নিয়েছে ফসলের মাঠ, পানির নিচে তলিয়েছে আমন বীজতলা আর সবজি ক্ষেত। কৃষক সফিউল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, পানি নেমেছে, কিন্তু ক্ষত রয়ে গেছে। এখন সংসার চালানোই দায়”। তবুও হাল ছাড়েননি তারা। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজেদের সামান্য যা অবশিষ্ট আছে, তা দিয়েই নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনছেন এ অঞ্চলের মানুষ।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের সীতাকুণ্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার সাথে সাথেই দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজন আরও জোরালো সরকারি পদক্ষেপ।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সংগঠন, যার মধ্যে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) অন্যতম। তাদের এই মানবিক সহায়তা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে কিছুটা হলেও সাহস জোগাবে।
মানুষের অদম্য মনোবলই এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার মূল শক্তি। সীতাকুণ্ডের মানুষ আবারো প্রমাণ করছে, প্রকৃতির রোষানল জয় করে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বদ্ধপরিকর।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















