০১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহররমের গুরুত্ব ও আশুরার রোজার ফজিলত: আমাদের করণীয়

  • ইসলাম ডেস্ক ।।
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ২৩ শেয়ার

আরবি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। পবিত্র কোরআনে যে চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, মহররম তার মধ্যে অন্যতম। এই মাসের দশম দিনটি ‘আশুরা’ নামে পরিচিত, যা মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময়। ইবাদত, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ নিয়ে আসে এই মাস।

আশুরার রোজার ঐতিহাসিক পটভূমি ও গুরুত্ব ইসলামের শুরুর দিকে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে এটি নফল ইবাদতে পরিণত হয়। হাদিস থেকে জানা যায়, হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি পাওয়ার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই দিনে রোজা রাখতেন। মদিনায় হিজরতের পর নবীজি (সা.) ইহুদিদেরও এই দিনে রোজা রাখতে দেখে বলেছিলেন, ‘মুসার (আ.) ব্যাপারে আমরাই তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।’ এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখেন এবং সাহাবিদের তা পালনের নির্দেশ দেন।

অপূর্ব ফজিলত আশুরার রোজার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো, এর মাধ্যমে বিগত এক বছরের সগিরা বা ছোট গুনাহ মাফ হওয়ার আশা করা যায়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (মুসলিম)। তবে মনে রাখতে হবে, এর অর্থ এই নয় যে কবিরা গুনাহও মাফ হয়ে যাবে; বড় গুনাহ থেকে বাঁচতে আন্তরিক তওবা করা আবশ্যক।

রোজার সঠিক পদ্ধতি ইসলামে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে নবীজি (সা.) শুধু ১০ তারিখ নয়, এর সাথে আরও একটি দিন রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। ফকিহ ও আলেমদের মতে আশুরার রোজা পালনের কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে:

  • সর্বোত্তম পদ্ধতি: মহররমের ৯, ১০ ও ১১—এই তিন দিন রোজা রাখা।
  • উত্তম পদ্ধতি: ৯ ও ১০ মহররম—এই দুই দিন রোজা রাখা।
  • বিকল্প পদ্ধতি: ১০ ও ১১ মহররম—এই দুই দিন রোজা রাখা।
  • সাধারণ পদ্ধতি: কোনো কারণে সম্ভব না হলে শুধু ১০ তারিখ রোজাও রাখা যাবে। এতেও আশুরার সওয়াব পাওয়া যাবে।

মহররম মাস কেবল নতুন বছরের শুরু নয়, বরং এটি আত্মসমালোচনা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহামূল্যবান সময়। তাই নফল রোজা, তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে এ মাসের পবিত্রতা রক্ষা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।

আশা করি এই প্রতিবেদনটি আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছে। এ বিষয়ে আপনার আরও কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে জানাতে পারেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজুড়ে যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)

মহররমের গুরুত্ব ও আশুরার রোজার ফজিলত: আমাদের করণীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

আরবি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। পবিত্র কোরআনে যে চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, মহররম তার মধ্যে অন্যতম। এই মাসের দশম দিনটি ‘আশুরা’ নামে পরিচিত, যা মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময়। ইবাদত, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ নিয়ে আসে এই মাস।

আশুরার রোজার ঐতিহাসিক পটভূমি ও গুরুত্ব ইসলামের শুরুর দিকে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে এটি নফল ইবাদতে পরিণত হয়। হাদিস থেকে জানা যায়, হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি পাওয়ার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই দিনে রোজা রাখতেন। মদিনায় হিজরতের পর নবীজি (সা.) ইহুদিদেরও এই দিনে রোজা রাখতে দেখে বলেছিলেন, ‘মুসার (আ.) ব্যাপারে আমরাই তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।’ এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখেন এবং সাহাবিদের তা পালনের নির্দেশ দেন।

অপূর্ব ফজিলত আশুরার রোজার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো, এর মাধ্যমে বিগত এক বছরের সগিরা বা ছোট গুনাহ মাফ হওয়ার আশা করা যায়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (মুসলিম)। তবে মনে রাখতে হবে, এর অর্থ এই নয় যে কবিরা গুনাহও মাফ হয়ে যাবে; বড় গুনাহ থেকে বাঁচতে আন্তরিক তওবা করা আবশ্যক।

রোজার সঠিক পদ্ধতি ইসলামে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে নবীজি (সা.) শুধু ১০ তারিখ নয়, এর সাথে আরও একটি দিন রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। ফকিহ ও আলেমদের মতে আশুরার রোজা পালনের কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে:

  • সর্বোত্তম পদ্ধতি: মহররমের ৯, ১০ ও ১১—এই তিন দিন রোজা রাখা।
  • উত্তম পদ্ধতি: ৯ ও ১০ মহররম—এই দুই দিন রোজা রাখা।
  • বিকল্প পদ্ধতি: ১০ ও ১১ মহররম—এই দুই দিন রোজা রাখা।
  • সাধারণ পদ্ধতি: কোনো কারণে সম্ভব না হলে শুধু ১০ তারিখ রোজাও রাখা যাবে। এতেও আশুরার সওয়াব পাওয়া যাবে।

মহররম মাস কেবল নতুন বছরের শুরু নয়, বরং এটি আত্মসমালোচনা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহামূল্যবান সময়। তাই নফল রোজা, তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে এ মাসের পবিত্রতা রক্ষা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।

আশা করি এই প্রতিবেদনটি আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছে। এ বিষয়ে আপনার আরও কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে জানাতে পারেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;