০১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডের টেরিয়াইল গ্রামে চরম ভোগান্তি ,সংস্কারের অপেক্ষায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

সীতাকুণ্ড উপজেলার ২নং বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের টেরিয়াইল গ্রামের প্রধান সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে সড়কটিতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যার ফলে স্থানীয় জনসাধারণ ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে রাস্তাটি নতুন করে মেরামত এবং রাস্তার পাশে থাকা খালটি খনন করা অত্যন্ত জরুরি।

সরেজমিনে দেখা যায়, টেরিয়াইল গ্রামের এই সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে জায়গায় জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়কটিতে কাদা-পানি জমে একাকার হয়ে যায়, ফলে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে রিকশা বা সিএনজি পাওয়া দায় হয়ে পড়ে, আর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন, কিন্তু বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে তারা সীমাহীন কষ্টের শিকার হচ্ছেন। রাস্তার বেহাল দশায় জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের।

কথা হয় স্থানীয় শিক্ষার্থী রুবিনা আক্তার এর সাথে । তিনি বলেন, “বর্ষা এলে রাস্তাটা যেন পুকুর হয়ে যায়। বইখাতা আর ইউনিফর্ম নষ্ট হওয়ার ভয়ে অনেক সময় স্কুলে যেতেই পারি না। এই রাস্তা আমাদের পড়াশোনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

সিএনজি চালক মো. হারুন বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি নামাতে ভয় লাগে। একবার নামলে গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়, টায়ার নষ্ট হয়। মেরামত খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল মালেক বলেন, “আমরা কি এই এলাকার নাগরিক না? বছরের পর বছর শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনে আসছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন রাস্তা দিয়ে পানি গড়িয়ে খাল দিয়ে নামতে পারে না, তখন ঘরে পানি ঢুকে আমাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। খালের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়াই আমাদের বড় দুঃখ।”

মুদি দোকানি জসিম উদ্দিন বলেন, “রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে আমাদের দোকানে মালামাল আনা-নেওয়া করতে খরচ দ্বিগুণ পড়ছে। অটো-ভ্যানওয়ালাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়, সেই টাকা আবার পণ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলে। সাধারণ মানুষ আমাদের ওপর রাগ করে, কিন্তু রাস্তার অবস্থা তো আর আমাদের হাতে নেই।”

অন্যদিকে , রাস্তা সংস্কারের পাশাপাশি এলাকাটি পানিবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করতে রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি খনন করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। খালটি পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর মতে, খালটি খনন করা হলে এলাকার পানিবদ্ধতা নিরসন হবে এবং রাস্তার স্থায়িত্ব বাড়বে।

টেরিয়াইল এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি দাবী জানিয়েছেন অতি দ্রুত যেন রাস্তাটি টেকসইভাবে নতুন করে সংস্কার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং জরুরী ভিত্তিতে রাস্তার পাশের ভরাট খালটি খনন করা হয় ।

সীতাকুণ্ডের উন্নয়নের স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে চট্টগ্রাম হয়ে উঠল “জুলুসের শহর”, জশনে জুলুসের পাঁচ দশকের ইতিহাস

সীতাকুণ্ডের টেরিয়াইল গ্রামে চরম ভোগান্তি ,সংস্কারের অপেক্ষায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সীতাকুণ্ড উপজেলার ২নং বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের টেরিয়াইল গ্রামের প্রধান সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে সড়কটিতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যার ফলে স্থানীয় জনসাধারণ ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে রাস্তাটি নতুন করে মেরামত এবং রাস্তার পাশে থাকা খালটি খনন করা অত্যন্ত জরুরি।

সরেজমিনে দেখা যায়, টেরিয়াইল গ্রামের এই সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে জায়গায় জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়কটিতে কাদা-পানি জমে একাকার হয়ে যায়, ফলে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে রিকশা বা সিএনজি পাওয়া দায় হয়ে পড়ে, আর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন, কিন্তু বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে তারা সীমাহীন কষ্টের শিকার হচ্ছেন। রাস্তার বেহাল দশায় জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের।

কথা হয় স্থানীয় শিক্ষার্থী রুবিনা আক্তার এর সাথে । তিনি বলেন, “বর্ষা এলে রাস্তাটা যেন পুকুর হয়ে যায়। বইখাতা আর ইউনিফর্ম নষ্ট হওয়ার ভয়ে অনেক সময় স্কুলে যেতেই পারি না। এই রাস্তা আমাদের পড়াশোনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

সিএনজি চালক মো. হারুন বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি নামাতে ভয় লাগে। একবার নামলে গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়, টায়ার নষ্ট হয়। মেরামত খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল মালেক বলেন, “আমরা কি এই এলাকার নাগরিক না? বছরের পর বছর শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনে আসছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন রাস্তা দিয়ে পানি গড়িয়ে খাল দিয়ে নামতে পারে না, তখন ঘরে পানি ঢুকে আমাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। খালের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়াই আমাদের বড় দুঃখ।”

মুদি দোকানি জসিম উদ্দিন বলেন, “রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে আমাদের দোকানে মালামাল আনা-নেওয়া করতে খরচ দ্বিগুণ পড়ছে। অটো-ভ্যানওয়ালাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়, সেই টাকা আবার পণ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলে। সাধারণ মানুষ আমাদের ওপর রাগ করে, কিন্তু রাস্তার অবস্থা তো আর আমাদের হাতে নেই।”

অন্যদিকে , রাস্তা সংস্কারের পাশাপাশি এলাকাটি পানিবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করতে রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি খনন করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। খালটি পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর মতে, খালটি খনন করা হলে এলাকার পানিবদ্ধতা নিরসন হবে এবং রাস্তার স্থায়িত্ব বাড়বে।

টেরিয়াইল এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি দাবী জানিয়েছেন অতি দ্রুত যেন রাস্তাটি টেকসইভাবে নতুন করে সংস্কার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং জরুরী ভিত্তিতে রাস্তার পাশের ভরাট খালটি খনন করা হয় ।

সীতাকুণ্ডের উন্নয়নের স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;