০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানি ড্রোন হামলায় ১৯ বছরের কুর্দি নারী যোদ্ধা গজলের মৃত্যু, শেষকৃত্যেও হাসপাতাল ও প্রশাসনের বাধা

উত্তর ইরাকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ নারী যোদ্ধাদের একজন গজল মোলান চাপারাবাদ (১৯)। সম্প্রতি তাঁর বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। তাঁর এই অকাল মৃত্যু ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ কুর্দিস্তান অঞ্চলে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া ফেলেছে।

হামলার প্রেক্ষাপট ও ‘স্মারক’ ড্রোন

কুর্দিস্তান প্রেস এজেন্সির (কুর্দপা) তথ্যমতে, গত ১৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে উত্তর ইরাকের সুরদাশ এলাকায় ড্রোন হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। এলাকাটি ইরানের বিরোধী রাজনৈতিক দল ‘কোমালা অব দ্য টয়লার্স অব কুর্দিস্তানের’ সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর আবাসিক ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত।

হামলার পর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বিধ্বস্ত একটি ড্রোনের গায়ে লেখা ছিল—‘আমার শহীদ নেতা সাইয়্যিদ আলী খামেনির স্মরণে’। যদিও তেহরান এই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি, তবে কোমালা পার্টির কেন্দ্রীয় সচিবালয় গজলকে ‘শহীদ’ ঘোষণা করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।

চিকিৎসায় অবহেলা ও আইনি ভীতি

গজলের মৃত্যুর পেছনে সময়মতো উন্নত চিকিৎসা না পাওয়া এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে শোরশ হাসপাতালে নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় বাখশিন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নাগরিক অধিকারকর্মী শাকিলা মাহদিপাহ জানান, বাখশিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গজলের পরিচয় জানতে পেরে আইনি জটিলতার ভয়ে তাঁকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। মারাত্মক রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ফারুক মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মর্গে অনীহা ও লাইব্রেরিতে শেষকৃত্য

গজলের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ গ্রহণ করতে মর্গের কর্মীরা অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ উঠেছে। বামপন্থী পেশমার্গা গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততার কারণে কোনো হাসপাতাল বা মর্গ সহায়তা না করায় শেষ পর্যন্ত সুলাইমানিয়া শহরের একটি লাইব্রেরির ভেতরে বন্ধু ও তাঁর হবু স্বামী মিলে গজলের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে তড়িঘড়ি দাফন

গজলের দাফন প্রক্রিয়াও ছিল অত্যন্ত থমথমে। ওই দিন সকালেই আইআরজিসি একটি পেশমার্গা কবরস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার পুনরায় আশঙ্কায় সুলাইমানিয়া কবরস্থানে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ও দ্রুততার সঙ্গে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।

কুর্দি মানবাধিকারকর্মী রাদা ফাতেহি গজলের অসামান্য সাহসিকতার কথা স্মরণ করে বলেন, যেখানে গজলের বয়সী অন্য তরুণীরা স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন খোঁজেন, সেখানে তিনি দেশ ও জাতির সংগ্রামের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ কুর্দিদের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে চট্টগ্রাম হয়ে উঠল “জুলুসের শহর”, জশনে জুলুসের পাঁচ দশকের ইতিহাস

ইরানি ড্রোন হামলায় ১৯ বছরের কুর্দি নারী যোদ্ধা গজলের মৃত্যু, শেষকৃত্যেও হাসপাতাল ও প্রশাসনের বাধা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪২:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

উত্তর ইরাকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ নারী যোদ্ধাদের একজন গজল মোলান চাপারাবাদ (১৯)। সম্প্রতি তাঁর বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। তাঁর এই অকাল মৃত্যু ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ কুর্দিস্তান অঞ্চলে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া ফেলেছে।

হামলার প্রেক্ষাপট ও ‘স্মারক’ ড্রোন

কুর্দিস্তান প্রেস এজেন্সির (কুর্দপা) তথ্যমতে, গত ১৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে উত্তর ইরাকের সুরদাশ এলাকায় ড্রোন হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। এলাকাটি ইরানের বিরোধী রাজনৈতিক দল ‘কোমালা অব দ্য টয়লার্স অব কুর্দিস্তানের’ সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর আবাসিক ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত।

হামলার পর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বিধ্বস্ত একটি ড্রোনের গায়ে লেখা ছিল—‘আমার শহীদ নেতা সাইয়্যিদ আলী খামেনির স্মরণে’। যদিও তেহরান এই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি, তবে কোমালা পার্টির কেন্দ্রীয় সচিবালয় গজলকে ‘শহীদ’ ঘোষণা করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।

চিকিৎসায় অবহেলা ও আইনি ভীতি

গজলের মৃত্যুর পেছনে সময়মতো উন্নত চিকিৎসা না পাওয়া এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে শোরশ হাসপাতালে নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় বাখশিন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নাগরিক অধিকারকর্মী শাকিলা মাহদিপাহ জানান, বাখশিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গজলের পরিচয় জানতে পেরে আইনি জটিলতার ভয়ে তাঁকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। মারাত্মক রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ফারুক মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মর্গে অনীহা ও লাইব্রেরিতে শেষকৃত্য

গজলের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ গ্রহণ করতে মর্গের কর্মীরা অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ উঠেছে। বামপন্থী পেশমার্গা গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততার কারণে কোনো হাসপাতাল বা মর্গ সহায়তা না করায় শেষ পর্যন্ত সুলাইমানিয়া শহরের একটি লাইব্রেরির ভেতরে বন্ধু ও তাঁর হবু স্বামী মিলে গজলের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে তড়িঘড়ি দাফন

গজলের দাফন প্রক্রিয়াও ছিল অত্যন্ত থমথমে। ওই দিন সকালেই আইআরজিসি একটি পেশমার্গা কবরস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার পুনরায় আশঙ্কায় সুলাইমানিয়া কবরস্থানে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ও দ্রুততার সঙ্গে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।

কুর্দি মানবাধিকারকর্মী রাদা ফাতেহি গজলের অসামান্য সাহসিকতার কথা স্মরণ করে বলেন, যেখানে গজলের বয়সী অন্য তরুণীরা স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন খোঁজেন, সেখানে তিনি দেশ ও জাতির সংগ্রামের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ কুর্দিদের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;