সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুরস্থ বগুলা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শীতলপুর এলাকার পশ্চিমে অবস্থিত ‘এম রহমান’ নামক একটি পরিত্যক্ত জাহাজ ভাঙা কারখানায় (শীপ ইয়ার্ড) দীর্ঘদিন ধরে সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র এই বালু উত্তোলনে সরাসরি সহযোগিতা দিলেও স্থানীয় সাধারণ মানুষ শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা ওই ইয়ার্ডে গিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দিলে ওতপেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৪-৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ সময় হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়কে নেমে আসেন এবং বগুলা বাজার এলাকায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন। বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই অবরোধ চলাকালীন মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী সড়ক থেকে সরে দাঁড়ান।
সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুল আলম বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রতিবাদ করতে গেলে কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা করেছে। প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখে আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছি, তবে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সাগর থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়রা মহাসড়কে ব্যারিকেড দিলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















