ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর সময়ের অপচয় এখন নিয়মিত চিত্র। দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত এই মহাসড়কের একটি বড় অংশ এখন প্রকাশ্যেই দখলে নিয়েছে বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো ‘কেডিএস লজিস্টিকস’। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মহাসড়কের ওপরই রাখা হচ্ছে শত শত কাভার্ডভ্যান ও লরি, যার ফলে সৃষ্ট যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন। অভিযোগ উঠেছে, এই দখলদারিত্বের নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী মহলের ইশারা এবং প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কেডিএস লজিস্টিকসের সামনে মহাসড়কের দুই থেকে তিন লেন দখল করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে তাদের পণ্যবাহী যানবাহন। অনেক সময় কন্টেইনার ওঠানো-নামানোর কাজও চলে রাস্তার ওপর। এর ফলে চার লেনের মহাসড়কটি সংকুচিত হয়ে এক লেনে পরিণত হয়। এতে করে ঢাকাগামী এবং চট্টগ্রামমুখী—উভয় লেনের দূরপাল্লার বাস ও জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ আরও ভয়াবহ। যদি কোনো সাধারণ মানুষ বা পথচারী এই অবৈধ পার্কিংয়ের প্রতিবাদ করেন, তবে ডিপোর চালক ও শ্রমিকরা একজোট হয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। এমনকি মারধরের ঘটনাও এখন নিত্যনৈমিত্তিক।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, “রাস্তা দিয়ে হাঁটার জায়গা নেই। কিছু বলতে গেলে ড্রাইভাররা লাঠিসোটা নিয়ে তেড়ে আসে। আর এরপরই মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে এলাকার কিছু চিহ্নিত ‘দালাল’ চক্রের। তারা প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে বা উল্টো এলাকাবাসীকে দোষারোপ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়।” এই দালাল চক্র মূলত ডিপো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ রাখার কাজ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের হলেও, কেডিএস-এর এই জবরদখল নিয়ে তাদের ভূমিকা নামমাত্র। মাঝে মাঝে লোকদেখানো অভিযান চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে না। প্রতিদিন হাজার হাজার অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এই যানজটে আটকে থাকছে।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার জন্য কেন দেশের প্রধান মহাসড়ক বন্ধ থাকবে? প্রশাসন কি এই লজিস্টিক কোম্পানির কাছে জিম্মি?”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই কৃত্রিম যানজটের কারণে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার জ্বালানি অপচয় হচ্ছে এবং রফতানি পণ্য পরিবহনে দেরি হওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পরিবেশগতভাবেও বায়ু ও শব্দদূষণ চরম আকার ধারণ করেছে এই এলাকায়।
সচেতন মহলের দাবি জঙ্গল সলিমপুরের মতো সীতাকুণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি জমিতে যখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ চলছে, তখন মহাসড়কের এই বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তারা বলেন, অবিলম্বে মহাসড়কের ওপর থেকে কেডিএস-এর সকল যানবাহন অপসারণ করতে হবে, তাছাড়া ডিপোর ভেতর নিজস্ব পার্কিং ইয়ার্ড ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এছাড়া প্রতিবাদী এলাকাবাসীর ওপর হামলাকারী চালক এবং নেপথ্যের দালালি চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে এছারাও হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত নজরদারি সেল গঠন করতে হবে।
পরিশেষে, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেডিএস লজিস্টিকসের এই দখলদারি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। নতুবা এই ক্ষোভ যে কোনো সময় বড় ধরনের গণ-অসন্তোষে রূপ নিতে পারে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















