চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে সার-কীটনাশকের দোকান। কৃষি দপ্তরে অনুমোদনে / অঅনুমোদনে যত্রতত্র ব্যবসা খুলে বসেছে অদক্ষ অনভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা। দক্ষতা-অভিজ্ঞতা না থাকায় অনুমাদনহীন ভুয়া কোম্পানির পণ্য বিক্রিতে প্রতারণা চলছে। বাজারজাত অহরহ নাম সর্বস্ব কোম্পানির সবজিতে ওষুধ প্রয়োগে আবাদি জমির ফসলে লাভের মুখ দেখছে না কৃষক। ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে ।
বাংলাদেশ কৃষি প্রদান দেশ। প্রতিবছর কৃষিতে বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ফলন বৃদ্ধি ও ফসল রক্ষায় ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন কীটনাশক ও বালাইনাশক। এতে করে সারা দেশের মতো সীতাকুণ্ডে গড়ে উঠেছে নামে- বেনামে, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত শতাধিক কোম্পানি বা বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান।
এসব কীটনাশক ও বালাইনাশক কৃষি উপকরণ বিক্রয় করার জন্য সরকারি বিধান মোতাবেক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের নিবন্ধনের আওতাভুক্ত হতে হয়। এসব কীটনাশক ও বালাইনাশক কোম্পানি তাদের প্রতিটি পণ্যের জন্য আলাদা আলাদা নিবন্ধন নিতে হয় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর হতে।
সীতাকুণ্ডে ভেজাল ও নিম্নমানের কীটনাশক এবং ফার্টিলাইজারে বাজার সয়লাভ। নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছে কৃষক। উপজেলা, ইউনিয়ন এবং অত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ছেয়ে গেছে ভেজাল ও নিম্নমানের কীটনাশক এবং ফার্টিলাইজারে। এসব ভেজাল ও নিম্নমানের কীটনাশক এবং ফার্টিলাইজার জমি ও ফসলে প্রয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারণ কৃষকেরা।
উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ১০ হাজার হেক্টর ভূমিতে সারা বছর নানা সবজির আবাদ হয়। পাহাড়-নদী ও সমতল ভূমিতে উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশ-বিদেশে রপ্তানিতে প্রচুর বৈদেশিক অর্জিত হয়।
বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণের জলবদ্ধতায় সমতল ভূমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ায় পাহাড়ে উৎপাদিত ফসলে সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। শীত ঋতুতে উৎপাদিত শিম ও টমেটোর আবাদ দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। আর ফসলে উচ্চ ফলনে মানসম্মত বীজ, সার ও কীটনাশকের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু ভেজাল বীজ, কীটনাশক ও সার সয়লাব হয়ে যাওয়ায় ফসল উৎপাদনে লাভের মুখ দেখছে না বলে জানান কৃষকরা।
তারা বলেন, বেশি মুনাফা পেতে বাজারজাত কোম্পানীর উচ্চ ফলন সম্পন্ন বীজে চাষাবাদ হয়। কিন্তু এসব বীজ লাগিয়ে ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বাজারের বীজ ও কীটনাশক ব্যবহারে উৎপাদনে লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কোম্পানির নতুন নতুন বীজ, সার ও কীটনাশকে বাজার ভরে উঠায় আসল-নকল বুঝার উপায় নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি ও ধানের ফলন ফলে। তিন ফসলি জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ একর হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়। ফসলের উচ্চ ফলনে বাজারজাত বীজ, সার ও কীটনাশকের ওপর কৃষক নির্ভরশীল অথচ সহজ সরল অল্পশিক্ষিত কৃষকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অধিক মুনাফার ফাদ পেতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল বীজ, সার ও কীটনাশক বিপণন করে ব্যবসা করছে। কৃষি দপ্তরের যোগসাজশে মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা নামসর্বস্ব কোম্পনির ভেজাল বীজ ও কীটনাশক বাজারজাত, মজুত ও বিক্রয় চললেও আইনি পদক্ষেপ নেই।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিব উল্লা বলেন, ‘ভেজাল কীটনাশক ও বীজ বাজারজাতের কোনো অভিযোগ পায়নি। লাইসেন্সকৃত ও লাইসেন্সবিহীন দোকানের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট না। তাছাড়া লাইসন্সেকৃত দোকানের তথ্য দেয়ার এখতিয়ার নেই বলে জানান তিনি।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















