• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
সীতাকুণ্ডে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা ও ভাঙচুর, আহত ২ নারী সীতাকুণ্ডে র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত মীরসরাইয়ে দীপ্ত যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ মীরসরাইয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত আইআইইউসির গতিরোধক অপসারণ, থার্মোপ্লাস্টিক জেব্রা ক্রসিং তৈরির উদ্যোগ সওজের সীতাকুণ্ডে আবারও সিএনজি ট্যাক্সিতে স্কুল শিক্ষিকাকে জিম্মি করে ছিনতাই ‘সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে নিজেদের চিন্তা-চেতনা ও কাজের পরিবর্তন আনতে হবে’: মীরসরাইয়ে এমপি নুরুল আমিন সীতাকুণ্ডে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কা, চালক-সহকারী নিহত চুলায় নরম ও তুলতুলে পাউরুটি তৈরির সহজ রেসিপি – মোহসেনা মিনা স্থানীয় অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রের খাবারে বিষাক্ত সিসা, শিশুর মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি

স্থানীয় অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রের খাবারে বিষাক্ত সিসা, শিশুর মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি

বিশেষ প্রতিবেদক, পোস্টকার্ড ।। / ৪৭ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক ও বিষাক্ত ধাতু সিসা। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ন্যাচার-এর ‘জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি’-তে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন বা দেখতে চকচকে হলেই কোনো রান্নার পাত্র নিরাপদ নয়, কারণ অনেক সময় পুরোনো ও স্ক্র্যাপ ধাতু গলিয়ে এসব পাত্র তৈরি করা হয়।

গবেষণায় বাংলাদেশের বিভিন্ন পরিবার থেকে সংগ্রহ করা ৭টি ব্যবহৃত এবং বাজার থেকে কেনা ২০টি নতুন পাত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, পরীক্ষা করা প্রতিটি পাত্র থেকেই রান্না করা খাবারে সিসা নির্গত হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন পাত্রে প্রথমবার রান্নার সময় প্রতি কেজি সাদা ভাতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে সর্বোচ্চ ৪২০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সিসা পাওয়া গেছে। অথচ শিশুদের খাবারে সিসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) নির্ধারিত সর্বোচ্চ নিরাপদ সীমা মাত্র প্রতি কেজিতে ১০ মাইক্রোগ্রাম। যদিও পাত্রগুলো বারবার ব্যবহারের ফলে সিসার নির্গমন কিছুটা কমে, তবুও তা কখনোই নিরাপদ মাত্রার নিচে নামে না।

খাবারে সিসা মিশে যাওয়ার পেছনে রান্নার ধরন ও পাত্র পরিষ্কারের পদ্ধতিও বিশেষভাবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন পাত্র স্টিলের তারের মাজুনি বা স্ক্রাবার দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করলে, না ঘষে ব্যবহারের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সিসা খাবারে মিশে যায়। এছাড়া ধাতব খুন্তি দিয়ে খাবার নাড়াচাড়া করলেও সিসার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। গ্রামাঞ্চলে শিশুরা যে পরিমাণ ভাত বা খাবার খায়, তাতে এই পাত্রে রান্না করা খাবার খেলে শিশুরা এফডিএর নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি সিসা গ্রহণ করতে পারে, যা তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং আচরণে দীর্ঘমেয়াদী মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসা অদৃশ্য হওয়ায় এবং এর কোনো গন্ধ বা স্বাদ না থাকায় খালি চোখে সাধারণ পরিবারের পক্ষে ভালো বা চকচকে পাত্রের আসল রূপ বোঝা অসম্ভব। এ বিষয়ে আইসিডিডিআর,বির এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ওয়াশের অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ড. জেসমিন সুলতানা শিশুদের সুরক্ষায় খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে পরীক্ষিত পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্টিলের তার দিয়ে মাজুনি ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং অম্লীয় বা টক জাতীয় খাবার রান্না না করার কথা বলেছেন গবেষকেরা। তবে তাঁরা মনে করেন, কেবল পারিবারিক সতর্কতা দিয়ে এই ঝুঁকি পুরোপুরি কমানো সম্ভব নয়; নিরাপদ রান্নার পাত্র উৎপাদন নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..