• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
সহপাঠীর রক্ত ভেজা মহাসড়কেই আইআইইউসি ছাত্রী মাইশাকে শেষ বিদায় পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পাওয়া সীতাকুণ্ডের অদম্য রাব্বির পাশে উপজেলা প্রশাসন সীতাকুণ্ডে বাসচাপায় আইআইইউসি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সীতাকুণ্ডে রাস্তা পার হতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু অভাবকে জয় করে এইচএসসিতে জিপিএ-৫, অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ফাহমিদা সীতাকুণ্ডে চাঁদা না পেয়ে হামলা ও বাগানের গাছ কাটার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি সীতাকুণ্ডে উপজেলা শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক নির্বাচিত হলেন আনসার সদস্য সরোয়ার উদ্দিন তিনবারের শ্রেষ্ঠ উপজেলা যুব সংগঠনের স্বীকৃতি পেল সীতাকুণ্ডের ‘আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ’ কাল থেকে চট্টগ্রামসহ ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু, গতিসীমা সর্বোচ্চ ২৫ কিমি ফয়’স লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন

সহপাঠীর রক্ত ভেজা মহাসড়কেই আইআইইউসি ছাত্রী মাইশাকে শেষ বিদায়

বিশেষ প্রতিবেদক ।। / ৪০ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

যে মহাসড়কে দ্রুতগামী লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া বাসের নিচে চাপা পড়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) মেধাবী শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত, সেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেই সম্পন্ন হলো তাঁর প্রথম জানাজা। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় আইআইইউসি-র মূল ফটকসংলগ্ন মহাসড়কে সহপাঠী, শিক্ষক ও হাজার হাজার শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সড়ক পারাপারের সময় চট্টগ্রাম শহরমুখী একটি ৮ নম্বর রুটের মিনিবাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি বেপরোয়া লরি। এতে মিনিবাসটি উল্টে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর গিয়ে পড়ে। বাসচাপায় মাইশাসহ অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী এবং তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া এলাকায়।

একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন মাইশার প্রবাসী বাবা দিদারুল আলম ও তাঁর মা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র চার দিন আগে গত শুক্রবার স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে মাইশার জন্মদিন পালন করা হয়েছিল। চমেক হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মাইশার মরদেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়ার পথে সহপাঠীদের শেষ বিদায়ের সুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে আনা হয়। মরদেহবাহী গাড়ি সেখানে পৌঁছালে কান্না ও কান্নার রোলে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শিক্ষকমণ্ডলী, কর্মকর্তা এবং হাজার হাজার সহপাঠীর উপস্থিতিতে মহাসড়কের ওপরই অনুষ্ঠিত হয় মরহুমার নামাজে জানাজা।

মাইশার আকস্মিক প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সহপাঠীর অকালমৃত্যুর বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং পার্শ্ববর্তী রেলপথ অবরোধ করেন। প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী চলে এই অবরোধ। ফলে মহাসড়কের দুপাশে বহু কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রীসাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল—২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক লরিচালক ও মালিককে গ্রেপ্তার, কেডিএস ডিপোর অবৈধ লরি পার্কিং স্থায়ীভাবে বন্ধ, মহাসড়কের দুই পাশে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, নিহত মাইশার পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা জোরদার করা। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার এবং জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিকেলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..