ফকিরহাট পশ্চিমপাড়া এলাকায় পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে এক অনন্য আধ্যাত্মিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় হযরত ইমামে আজম (রহ.) জামে মসজিদে আগামী শনিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মাসব্যাপী বিশেষ ‘কোরআন শিক্ষার আসর’। প্রতিদিন যোহরের নামাজের পর মাত্র ৩০ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত অথচ কার্যকর মজলিসে অংশ নিয়ে যে কেউ পবিত্র কোরআনের মৌলিক শিক্ষা অর্জন করতে পারবেন। আয়োজকদের মতে, শতজনকে শেখানোর অপেক্ষায় বসে না থেকে অন্তত দুইজন আগ্রহী ব্যক্তিকে নিয়ে কাজ শুরু করাও ইহকাল ও পরকালের জন্য পরম কল্যাণের পথ।
ইসলামী জীবনদর্শনে পবিত্র কোরআন শিক্ষা করা কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং এটি প্রতিটি মুসলমানের জন্য অপরিহার্য এক দায়িত্ব। কোরআন হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান এবং সঠিক পথের দিশারি। এই কিতাব পাঠের মাধ্যমে মানুষ তার স্রষ্টাকে চিনতে পারে এবং জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য খুঁজে পায়। অন্ধকার ও বিভ্রান্তির এই যুগে কোরআনের আলোই পারে একজন মুমিনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত শিখতে সচেষ্ট হওয়া। অন্যথায় অশুদ্ধ তিলাওয়াতের কারণে ব্যক্তি দুনিয়া ও আখেরাতে লানত প্রাপ্ত হয়। তাছাড়া নামাজের মধ্যে অশুদ্ধ তেলাওয়াতের কারণে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায়। তাই নামাজে যে সূরাগুলো তেলাওয়াত করা আমাদের জন্য একান্ত অপরিহার্য, অন্তত সেই সূরাগুলো এই আসরে শুদ্ধ করে শেখানো হবে।
ইহকালীন জীবনে কোরআন শিক্ষার সুফল অপরিসীম। নিয়মিত কোরআন চর্চা করলে অন্তরে প্রশান্তি অনুভূত হয় এবং দুশ্চিন্তা লাঘব হয়। যারা কোরআন পড়ে এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে, আল্লাহ তাআলা সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও কোরআনের শিক্ষা শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা ফিরিয়ে আনে। এছাড়াও এটি মানুষের মেধা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা না জানার কারণে কষ্টার্জিত ইবাদত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে বিধায় এই আসরে অতি প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েলও আলোচনা করা হবে।
পরকালীন মুক্তি ও জান্নাত লাভের প্রধান চাবিকাঠি হলো আল-কুরআন। হাশরের সেই কঠিন ময়দানে, যখন কেউ কারো উপকারে আসবে না, তখন এই পবিত্র কোরআন তার পাঠকের জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর পাঠ করে, সে দশটি নেকি লাভ করে। পরকালে কোরআন পাঠকারীর প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে জান্নাতের উচ্চতর মাকাম নির্ধারিত হবে। সুতরাং পরকালীন সীমাহীন সুখের নিশ্চয়তা পেতে কোরআন শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
রাসূল (দ.) বলেছেন, “তোমরা দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করো।” এই হাদিস থেকে বোঝা যায় জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। আর এই কারণেই ফকিরহাটের এই কোরআন শিক্ষার আসরকে সকল বয়সের মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পৃথিবীর সর্বোত্তম মজলিসের মধ্যে ইলম বা দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের মজলিসই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। যারা এই পবিত্র মজলিসে বসে নিজেকে ধন্য করতে চান, তাদের দ্রুত মসজিদে যোগাযোগ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সুন্দর ও কল্যাণময় এই উদ্যোগ সফল করার মাধ্যমে একটি আদর্শ ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আয়োজকবৃন্দ।
খালেদ / পোস্টকার্ড;



















