চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতলী সড়কের ধোপাপাড়া অংশটি এখন যেন এক অভিভাবকহীন জনপদে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুম আসতেই পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গিয়ে সড়কটির সার্বিক অবস্থা চরম আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় শত শত বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধোপাপাড়া ও আশপাশের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যায় ভুগছেন। তবে এর মূলে রয়েছে সরকারি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দখলের এক ভয়াবহ চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের নাকের ডগায় ছড়ার কালভার্ট ও স্বাভাবিক নালা দখল করে গড়ে তুলেছেন দোকানপাট, পেট্রোল পাম্প এবং ইট-বালির চাতাল। পানি চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বক্তব্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ছড়ার কালভার্ট নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করা হলেও অজানা কারণে এখন পর্যন্ত এর কাজ শুরু করেনি প্রশাসন। তার ওপর নতুন করে শুরু হওয়া সড়ক সংস্করণের কাজে দেখা গেছে চরম গাফিলতি। দু’পাশে প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল বা প্রতিরক্ষাবেষ্টনী নির্মাণ না করেই তড়িঘড়ি করে রাস্তার কাজ করার কারণে প্রথম বৃষ্টিতেই রাস্তা ধসে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
এলাকার এই চরম জনদুর্ভোগের চিত্র উল্লেখ করে স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, কোনো রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধি দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভাগা জনপদের খবর রাখছেন না। ফলে দিনের পর দিন সাধারণ মানুষকে কাদা-পানি ও ধসে যাওয়া রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এমতাবস্থায়, স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ধসে যাওয়া তুলাতলী সড়কটি টেকসইভাবে নির্মাণের জন্য সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম এবং সীতাকুণ্ড পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব নজরুল ইসলামের সরাসরি ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই জনদুর্ভোগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে প্রামাণ্য ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দুই কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও সড়ক সংস্কারের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















