০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ফসল হারিয়ে দিশেহারা সোয়া লাখ কৃষক

অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের ১ লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি কৃষক মাঠের ফসল হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলার চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি ও পটিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় হাজার হাজার একর জমির আউশ ধান ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মাঠে কৃষকদের প্রায় ২৫ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন আউশ ধান নষ্ট হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বন্যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, আদা, হলুদ ও পানের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৫২২ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু আউশ ধান নষ্ট হয়েছে ৫০ হাজার কৃষকের। সবমিলিয়ে কৃষকদের ফসলের প্রাথমিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে আউশ ধানের ক্ষতি ১২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বন্যায় ৫৯ হাজার কৃষকের গ্রীষ্মকালীন সবজি এবং সাড়ে ১৪ হাজার কৃষকের আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. ওমর ফারুক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আউশের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ না থাকলেও তাদেরকে আমন চাষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩ হাজার ৬৯৬ জন কৃষককে বিনামূল্যে আমনের বীজ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটহাজারী ও পটিয়ায় আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের চারা বিতরণ করা হবে। সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকেও কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

আগস্ট মাস থেকে আমন ধান রোপণ শুরু হওয়ায় এখন কৃষকদের একমাত্র ভরসা আমন চাষ। জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে একই দিনে দুই কিশোর-কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামে ফসল হারিয়ে দিশেহারা সোয়া লাখ কৃষক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের ১ লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি কৃষক মাঠের ফসল হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলার চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি ও পটিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় হাজার হাজার একর জমির আউশ ধান ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মাঠে কৃষকদের প্রায় ২৫ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন আউশ ধান নষ্ট হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বন্যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, আদা, হলুদ ও পানের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৫২২ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু আউশ ধান নষ্ট হয়েছে ৫০ হাজার কৃষকের। সবমিলিয়ে কৃষকদের ফসলের প্রাথমিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে আউশ ধানের ক্ষতি ১২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বন্যায় ৫৯ হাজার কৃষকের গ্রীষ্মকালীন সবজি এবং সাড়ে ১৪ হাজার কৃষকের আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. ওমর ফারুক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আউশের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ না থাকলেও তাদেরকে আমন চাষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩ হাজার ৬৯৬ জন কৃষককে বিনামূল্যে আমনের বীজ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটহাজারী ও পটিয়ায় আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের চারা বিতরণ করা হবে। সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকেও কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

আগস্ট মাস থেকে আমন ধান রোপণ শুরু হওয়ায় এখন কৃষকদের একমাত্র ভরসা আমন চাষ। জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;