০১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রক্তস্নাত ৫ আগস্ট, বিজয়ের দুই বছর পূর্ণে নতুন বাংলাদেশের উদ্‌যাপন

আজ ৫ আগস্ট, ২০২৬। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি দিন—ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খল ভেঙে ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ নতুন এক স্বাধীন সূর্য দেখেছিল আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে। সেদিনের সেই ‘মার্চ টু ঢাকা’ আর লাখো মানুষের বাঁধভাঙা উল্লাসের স্মৃতি আজ ফের দোলা দিচ্ছে দেশবাসীর মনে। দিনটি উপলক্ষে সরকারি ছুটির পাশাপাশি পুরো দেশজুড়ে চলছে নানা বর্ণাঢ্য আয়োজন। পিছিয়ে নেই বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামও।

রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও শীর্ষ বাণীতে অঙ্গীকার: ঐতিহাসিক এই দিনটি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তারা শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে স্পষ্ট করে বলেছেন, ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত এই জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে; রাষ্ট্রে যেন আর কখনো কোনো উগ্রবাদ বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।

স্মৃতিস্তম্ভে ফুল আর বর্ণাঢ্য আয়োজনে চট্টগ্রাম: আজকের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সকাল থেকেই নিউমার্কেট সংলগ্ন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। এর বাইরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবার ও বীর যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, এবং বিভিন্ন উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে শিশু একাডেমি ও শিল্পকলায় চলছে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এছাড়া দিনভর বিনোদন কেন্দ্রগুলো শিশুদের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সন্ধ্যায় শহীদ বেদীতে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের কর্মসূচি: শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, রাজপথের রাজনৈতিক দলগুলোও দিনটি নানা আয়োজনে পালন করছে। জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী ও জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবিতে আজ বিকেলে নগরীর লালদীঘি ময়দান সংলগ্ন জেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিলের ডাক দিয়েছে ‘১১ দলীয় ঐক্য, চট্টগ্রাম মহানগর’। জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শাহজাহান চৌধুরী এমপির। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য গণমিছিল নগরীর নিউমার্কেট চত্বরে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গনেও প্রতিধ্বনিত জুলাইয়ের গান: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বইছে উৎসবের আমেজ। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) দিনটি পালনে নিয়েছে বিশেষ কর্মসূচি। সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি চলছে গান ও আবৃত্তির আসর। উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে যোগ দিয়েছেন দেশবরেণ্য কবি ও দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

দুই বছর আগে ৩৬ দিনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আজ সজীব হয়ে উঠেছে মানুষের হৃদয়ে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়ার পণ নিয়েই এগিয়ে চলেছে আজকের বাংলাদেশ।

খালেদ / পোস্টকার্ড

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

রক্তস্নাত ৫ আগস্ট, বিজয়ের দুই বছর পূর্ণে নতুন বাংলাদেশের উদ্‌যাপন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

আজ ৫ আগস্ট, ২০২৬। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি দিন—ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খল ভেঙে ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ নতুন এক স্বাধীন সূর্য দেখেছিল আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে। সেদিনের সেই ‘মার্চ টু ঢাকা’ আর লাখো মানুষের বাঁধভাঙা উল্লাসের স্মৃতি আজ ফের দোলা দিচ্ছে দেশবাসীর মনে। দিনটি উপলক্ষে সরকারি ছুটির পাশাপাশি পুরো দেশজুড়ে চলছে নানা বর্ণাঢ্য আয়োজন। পিছিয়ে নেই বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামও।

রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও শীর্ষ বাণীতে অঙ্গীকার: ঐতিহাসিক এই দিনটি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তারা শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে স্পষ্ট করে বলেছেন, ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত এই জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে; রাষ্ট্রে যেন আর কখনো কোনো উগ্রবাদ বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।

স্মৃতিস্তম্ভে ফুল আর বর্ণাঢ্য আয়োজনে চট্টগ্রাম: আজকের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সকাল থেকেই নিউমার্কেট সংলগ্ন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। এর বাইরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবার ও বীর যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, এবং বিভিন্ন উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে শিশু একাডেমি ও শিল্পকলায় চলছে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এছাড়া দিনভর বিনোদন কেন্দ্রগুলো শিশুদের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সন্ধ্যায় শহীদ বেদীতে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের কর্মসূচি: শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, রাজপথের রাজনৈতিক দলগুলোও দিনটি নানা আয়োজনে পালন করছে। জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী ও জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবিতে আজ বিকেলে নগরীর লালদীঘি ময়দান সংলগ্ন জেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিলের ডাক দিয়েছে ‘১১ দলীয় ঐক্য, চট্টগ্রাম মহানগর’। জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শাহজাহান চৌধুরী এমপির। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য গণমিছিল নগরীর নিউমার্কেট চত্বরে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গনেও প্রতিধ্বনিত জুলাইয়ের গান: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বইছে উৎসবের আমেজ। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) দিনটি পালনে নিয়েছে বিশেষ কর্মসূচি। সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি চলছে গান ও আবৃত্তির আসর। উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে যোগ দিয়েছেন দেশবরেণ্য কবি ও দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

দুই বছর আগে ৩৬ দিনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আজ সজীব হয়ে উঠেছে মানুষের হৃদয়ে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়ার পণ নিয়েই এগিয়ে চলেছে আজকের বাংলাদেশ।

খালেদ / পোস্টকার্ড