০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজারে ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক, ঝুঁকিতে শিশুরাও

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া দেশি-বিদেশি ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। এতে শিশুসহ সাধারণ ভোক্তাদের স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে পরিবেশ ও উন্নয়ন সংস্থা ‘এসডো’।

রবিবার (২৬ জুলাই) নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক বছরের দীর্ঘ গবেষণা ও সমীক্ষার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে’ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালিয়ে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় আধুনিক স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। গবেষণাগারে পরীক্ষার পাশাপাশি দেশের ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপরও জরিপ চালানো হয়।

সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক কণা মেডিপ্লাসে

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার টেবিলে থাকা টুথপেস্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি—প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেল’-এ।

অন্যান্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মধ্যে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশ’-এ ১৬০টি করে, ‘সিগন্যাল গ্রিন টি’-তে ১২০টি, ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার’-এ ১০০টি করে এবং ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট’-এ ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

শিশুদের ৪টি ব্র্যাণ্ডেই বিষাক্ত কণা

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বাজারে থাকা ৬টি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ৪টিতেই বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলছে। এর মধ্যে শিশুদের ব্র্যান্ড ‘কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা’-তে সর্বোচ্চ ১৪০টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ‘মেরিল বেবি স্ট্রবেরি’-তে ৬০টি, ‘মেরিল বেবি অরেঞ্জ’-এ ৪০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জ’-এ ২০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

উৎপাদনকারী দেশের চিত্র

পরীক্ষা করা স্থানীয় ২৫টি ব্র্যান্ডের মধ্যে ২২টিতেই এই বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এছাড়া ভিয়েতনামের ২টি ব্র্যান্ডের দুটিতেই, থাইল্যান্ডের ২টি ব্র্যান্ডের ১টিতে এবং ভারতের ৫টি ব্র্যান্ডের ১টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

যেগুলোতে মেলেনি প্লাস্টিক কণা

গবেষণায় কিছু স্বস্তির তথ্যও সামনে এসেছে। দেশে উৎপাদিত টুথপেস্টের মধ্যে ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)’ এবং ‘ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি’-তে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিশুদের জন্য আমদানিকৃত ‘কুডুমু অরেঞ্জ’-এও ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা মেলেনি।

দৈনন্দিন ব্যবহারের এই অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীতে বিষাক্ত প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি মানবদেহের জন্য কতটা মারাত্মক, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টুথপেস্ট উৎপাদনে কঠোর নজরদারি ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

বাজারে ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক, ঝুঁকিতে শিশুরাও

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১৭:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া দেশি-বিদেশি ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। এতে শিশুসহ সাধারণ ভোক্তাদের স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে পরিবেশ ও উন্নয়ন সংস্থা ‘এসডো’।

রবিবার (২৬ জুলাই) নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক বছরের দীর্ঘ গবেষণা ও সমীক্ষার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে’ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালিয়ে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় আধুনিক স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। গবেষণাগারে পরীক্ষার পাশাপাশি দেশের ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপরও জরিপ চালানো হয়।

সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক কণা মেডিপ্লাসে

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার টেবিলে থাকা টুথপেস্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি—প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেল’-এ।

অন্যান্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মধ্যে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশ’-এ ১৬০টি করে, ‘সিগন্যাল গ্রিন টি’-তে ১২০টি, ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার’-এ ১০০টি করে এবং ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট’-এ ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

শিশুদের ৪টি ব্র্যাণ্ডেই বিষাক্ত কণা

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বাজারে থাকা ৬টি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ৪টিতেই বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলছে। এর মধ্যে শিশুদের ব্র্যান্ড ‘কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা’-তে সর্বোচ্চ ১৪০টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ‘মেরিল বেবি স্ট্রবেরি’-তে ৬০টি, ‘মেরিল বেবি অরেঞ্জ’-এ ৪০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জ’-এ ২০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

উৎপাদনকারী দেশের চিত্র

পরীক্ষা করা স্থানীয় ২৫টি ব্র্যান্ডের মধ্যে ২২টিতেই এই বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এছাড়া ভিয়েতনামের ২টি ব্র্যান্ডের দুটিতেই, থাইল্যান্ডের ২টি ব্র্যান্ডের ১টিতে এবং ভারতের ৫টি ব্র্যান্ডের ১টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

যেগুলোতে মেলেনি প্লাস্টিক কণা

গবেষণায় কিছু স্বস্তির তথ্যও সামনে এসেছে। দেশে উৎপাদিত টুথপেস্টের মধ্যে ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)’ এবং ‘ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি’-তে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিশুদের জন্য আমদানিকৃত ‘কুডুমু অরেঞ্জ’-এও ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা মেলেনি।

দৈনন্দিন ব্যবহারের এই অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীতে বিষাক্ত প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি মানবদেহের জন্য কতটা মারাত্মক, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টুথপেস্ট উৎপাদনে কঠোর নজরদারি ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;