০২:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে চালু হলো এআই ট্রাফিক ক্যামেরা, ৭ মোড় ও মহাসড়কের ১৬ পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় মামলা

চট্টগ্রামের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) ট্রাফিক ক্যামেরা। এর মাধ্যমে চালকদের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে ক্যামেরাগুলো এবং সরাসরি ডিজিটাল মামলা ও জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর প্রধান ট্রাফিক পয়েন্টগুলোর পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও এই প্রযুক্তি কার্যকর করা হয়েছে।

ক্যামেরা স্থাপিত স্থানসমূহ
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর প্রধান ৭টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অত্যাধুনিক এই এআই ক্যামেরাগুলো স্থাপন ও সক্রিয় করা হয়েছে। পয়েন্টগুলো হলো—

১. আগ্রাবাদ মোড়

২. জিইসি (GEC) মোড়

৩. ষোলশহর মোড়

৪. নিউ মার্কেট মোড়

৫. টাইগারপাস মোড়

৬. প্রবর্তক মোড়

৭. সিটি গেট

এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরী ছাড়াও কৌশলগত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও এই ট্রাফিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে।

এআই ক্যামেরা যেসব অপরাধ শনাক্ত করবে
উন্নত প্রযুক্তির এই ক্যামেরাগুলো মূলত মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কিছু ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে—

রং সাইডে চলাচল (উল্টো পথে গাড়ি চালানো)

ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা (লাল বাতি জ্বলাকালীন সিগন্যাল অতিক্রান্ত করা)

অবৈধ পার্কিং (নিষিদ্ধ স্থানে গাড়ি থামিয়ে রাখা)

যানবাহনগুলোর নম্বরপ্লেট নিখুঁতভাবে স্ক্যান করে এই অপরাধগুলো শনাক্ত করার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক সার্ভারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা ও জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। ফলে ট্রাফিক পুলিশের সাথে সরাসরি তর্কে জড়ানোর সুযোগ না রেখেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

চালকদের প্রতি প্রশাসনের সতর্কবার্তা
পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি চালুর মূল উদ্দেশ্য জরিমানা আদায় নয়, বরং চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। একটু সচেতনতাই চালকদের বড় অংকের জরিমানা, অযথা সময়ের অপচয় এবং মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে।

নগরীর সকল চালক, বাইকার ও যানবাহন মালিকদের ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মেনে চলার এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে রাস্তায় চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে। আধুনিক এই ব্যবস্থার ফলে চট্টগ্রামে যানজট ও দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা প্রকাশ করছে সচেতন মহল।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে বাইকের ধাক্কায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু

চট্টগ্রামে চালু হলো এআই ট্রাফিক ক্যামেরা, ৭ মোড় ও মহাসড়কের ১৬ পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় মামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) ট্রাফিক ক্যামেরা। এর মাধ্যমে চালকদের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে ক্যামেরাগুলো এবং সরাসরি ডিজিটাল মামলা ও জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর প্রধান ট্রাফিক পয়েন্টগুলোর পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও এই প্রযুক্তি কার্যকর করা হয়েছে।

ক্যামেরা স্থাপিত স্থানসমূহ
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর প্রধান ৭টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অত্যাধুনিক এই এআই ক্যামেরাগুলো স্থাপন ও সক্রিয় করা হয়েছে। পয়েন্টগুলো হলো—

১. আগ্রাবাদ মোড়

২. জিইসি (GEC) মোড়

৩. ষোলশহর মোড়

৪. নিউ মার্কেট মোড়

৫. টাইগারপাস মোড়

৬. প্রবর্তক মোড়

৭. সিটি গেট

এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরী ছাড়াও কৌশলগত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও এই ট্রাফিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে।

এআই ক্যামেরা যেসব অপরাধ শনাক্ত করবে
উন্নত প্রযুক্তির এই ক্যামেরাগুলো মূলত মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কিছু ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে—

রং সাইডে চলাচল (উল্টো পথে গাড়ি চালানো)

ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা (লাল বাতি জ্বলাকালীন সিগন্যাল অতিক্রান্ত করা)

অবৈধ পার্কিং (নিষিদ্ধ স্থানে গাড়ি থামিয়ে রাখা)

যানবাহনগুলোর নম্বরপ্লেট নিখুঁতভাবে স্ক্যান করে এই অপরাধগুলো শনাক্ত করার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক সার্ভারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা ও জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। ফলে ট্রাফিক পুলিশের সাথে সরাসরি তর্কে জড়ানোর সুযোগ না রেখেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

চালকদের প্রতি প্রশাসনের সতর্কবার্তা
পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি চালুর মূল উদ্দেশ্য জরিমানা আদায় নয়, বরং চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। একটু সচেতনতাই চালকদের বড় অংকের জরিমানা, অযথা সময়ের অপচয় এবং মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে।

নগরীর সকল চালক, বাইকার ও যানবাহন মালিকদের ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মেনে চলার এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে রাস্তায় চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে। আধুনিক এই ব্যবস্থার ফলে চট্টগ্রামে যানজট ও দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা প্রকাশ করছে সচেতন মহল।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;