০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ও ভাই চাই যান, রাজা ইলিশ ফইজ্যে!’ সীতাকুণ্ড উপকূলে হাঁকডাক, মুখে হাসি জেলেদের

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উপকূলজুড়ে এখন রুপালি ইলিশের ঝিলিক আর ব্যস্ত হাঁকডাক। বঙ্গোপসাগরের মোহনা ও সন্দ্বীপ চ্যানেলে চলতি মৌসুমের শুরুতেই মিলছে বড় আকারের ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। ফলে দক্ষিণ সলিমপুরসহ উপজেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, এবার ইলিশ আহরণে গত পাঁচ বছরের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে সীতাকুণ্ড।

গতকাল সরজমিনে সীতাকুণ্ডের লতিফপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের পানি না থাকায় বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভিড়ছে জেলে নৌকা। সেখান থেকে কাঁধে টুকরি চাপিয়ে ইলিশ নিয়ে আসা মাত্রই জেলেদের ঘিরে ধরছেন পাইকারেরা। স্থানীয় দরদামকারীরা মধ্যস্থতা করে হাঁকডাক শুরু করতেই জমজমাট নিলামে উঠে যাচ্ছে প্রতিটি মাছের ঝুড়ি। প্রতি টুকরিতে ৭ থেকে ১০ কেজি ইলিশ সাজানো থাকে, যা আকারভেদে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় পাইকার মো. সাইফুল জানান, জেলেরা যাতে পাইকারদের কাছে ঠকে না যান, সেজন্যই তারা নিলাম পরিচালনা করেন। এতে প্রতি ঝুড়ি থেকে তাঁদের ১০০ থেকে ২০০ টাকা কমিশন থাকে।

মাছ ধরতে যাওয়া লতিফপুরের জেলে মোহন জলদাস জানান, সন্দ্বীপ চ্যানেলে জাল ফেলে ১৮ কেজি ইলিশ পেয়েছেন তিনি, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল এক কেজিরও বেশি ওজনের ‘রাজা ইলিশ’। ১৪ হাজার টাকায় মাছ বিক্রি করে এক দিনেই তাঁর নিট লাভ হয়েছে ১২ হাজার টাকা।

কুমিরা ইউনিয়নের জেলে সর্দার প্রদীপ জলদাস জানান, গত তিন বছর মৌসুমের শুরুতে খালি হাতে ফিরতে হলেও এবার চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। আশ্বিন-ভাদ্রের মূল মৌসুম আসার আগেই এত মাছ মেলায় অতীতের লোকসান কাটিয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন তাঁরা। সীতাকুণ্ডের সলিমপুর, ভাটিয়ারী, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া ও বাড়বকুণ্ডের জেলেরাও প্রচুর মাছ পাচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পুরো জুলাই মাসে সীতাকুণ্ডে ৭৪ দশমিক ২২ মেট্রিক টন ইলিশ ধরা পড়েছিল। অথচ চলতি বছর জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনেই আহরণ ছাড়িয়েছে ৭৬ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতাছিম বিল্লাহ জানান, জাটকা নিধন রোধে কঠোর নজরদারি, প্রজনন মৌসুমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জেলেদের সচেতন করার ফলেই আজ এই সাফল্য এসেছে। ভরা মৌসুম এখনো বাকি থাকায় এবার বিগত পাঁচ বছরের রেকর্ড ভেঙে যাবে বলে ধারণা করছে মৎস্য বিভাগ।

এদিকে লতিফপুর বেড়িবাঁধেই মাত্র কয়েক ঘণ্টায় কয়েক লাখ টাকার ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছে। পাইকার জসিম উদ্দিন জানান, মাছের চমৎকার আকারের কারণে বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কেনা মাছের বড় একটি অংশ প্রতিদিন ঢাকায় চালান করা হচ্ছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

‘ও ভাই চাই যান, রাজা ইলিশ ফইজ্যে!’ সীতাকুণ্ড উপকূলে হাঁকডাক, মুখে হাসি জেলেদের

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উপকূলজুড়ে এখন রুপালি ইলিশের ঝিলিক আর ব্যস্ত হাঁকডাক। বঙ্গোপসাগরের মোহনা ও সন্দ্বীপ চ্যানেলে চলতি মৌসুমের শুরুতেই মিলছে বড় আকারের ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। ফলে দক্ষিণ সলিমপুরসহ উপজেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, এবার ইলিশ আহরণে গত পাঁচ বছরের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে সীতাকুণ্ড।

গতকাল সরজমিনে সীতাকুণ্ডের লতিফপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের পানি না থাকায় বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভিড়ছে জেলে নৌকা। সেখান থেকে কাঁধে টুকরি চাপিয়ে ইলিশ নিয়ে আসা মাত্রই জেলেদের ঘিরে ধরছেন পাইকারেরা। স্থানীয় দরদামকারীরা মধ্যস্থতা করে হাঁকডাক শুরু করতেই জমজমাট নিলামে উঠে যাচ্ছে প্রতিটি মাছের ঝুড়ি। প্রতি টুকরিতে ৭ থেকে ১০ কেজি ইলিশ সাজানো থাকে, যা আকারভেদে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় পাইকার মো. সাইফুল জানান, জেলেরা যাতে পাইকারদের কাছে ঠকে না যান, সেজন্যই তারা নিলাম পরিচালনা করেন। এতে প্রতি ঝুড়ি থেকে তাঁদের ১০০ থেকে ২০০ টাকা কমিশন থাকে।

মাছ ধরতে যাওয়া লতিফপুরের জেলে মোহন জলদাস জানান, সন্দ্বীপ চ্যানেলে জাল ফেলে ১৮ কেজি ইলিশ পেয়েছেন তিনি, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল এক কেজিরও বেশি ওজনের ‘রাজা ইলিশ’। ১৪ হাজার টাকায় মাছ বিক্রি করে এক দিনেই তাঁর নিট লাভ হয়েছে ১২ হাজার টাকা।

কুমিরা ইউনিয়নের জেলে সর্দার প্রদীপ জলদাস জানান, গত তিন বছর মৌসুমের শুরুতে খালি হাতে ফিরতে হলেও এবার চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। আশ্বিন-ভাদ্রের মূল মৌসুম আসার আগেই এত মাছ মেলায় অতীতের লোকসান কাটিয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন তাঁরা। সীতাকুণ্ডের সলিমপুর, ভাটিয়ারী, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া ও বাড়বকুণ্ডের জেলেরাও প্রচুর মাছ পাচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পুরো জুলাই মাসে সীতাকুণ্ডে ৭৪ দশমিক ২২ মেট্রিক টন ইলিশ ধরা পড়েছিল। অথচ চলতি বছর জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনেই আহরণ ছাড়িয়েছে ৭৬ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতাছিম বিল্লাহ জানান, জাটকা নিধন রোধে কঠোর নজরদারি, প্রজনন মৌসুমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জেলেদের সচেতন করার ফলেই আজ এই সাফল্য এসেছে। ভরা মৌসুম এখনো বাকি থাকায় এবার বিগত পাঁচ বছরের রেকর্ড ভেঙে যাবে বলে ধারণা করছে মৎস্য বিভাগ।

এদিকে লতিফপুর বেড়িবাঁধেই মাত্র কয়েক ঘণ্টায় কয়েক লাখ টাকার ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছে। পাইকার জসিম উদ্দিন জানান, মাছের চমৎকার আকারের কারণে বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কেনা মাছের বড় একটি অংশ প্রতিদিন ঢাকায় চালান করা হচ্ছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;