বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান ডেম্বেলে ও বারকোলা সমৃদ্ধ তারকাখচিত আক্রমণভাগ নিয়ে শিরোপা প্রত্যাশীদের তালিকায় ছিল তারা। তবে সেমিফাইনালের মঞ্চে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সামনে কোনো উত্তরই খুঁজে পায়নি দিদিয়ের দেশমের দল। ডালাস স্টেডিয়ামে আধিপত্য বজায় রেখে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০১০ সালের পর আবারও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে লামিন ইয়ামালদের দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। নবম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। তবে ২৩তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায় স্পেন। ফ্রান্সের ডি-বক্সে লামিন ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক মিকেল ওইয়ারসাবাল।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় ফ্রান্স। এমবাপে গতি দিয়ে স্পেনের রক্ষণে চাপ তৈরির চেষ্টা করলেও কুকুরেয়া, লাপোর্তে ও কুবারসির দৃঢ় রক্ষণভাগের সামনে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে স্পেন ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও ১-০ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্পেন। ৫৮তম মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে চমৎকার ‘ওয়ান-টু’ পাস খেলে পেড্রো পোরো ফ্রান্সের জালে দ্বিতীয়বার বল জড়ান। এর কিছু সময় পর ইয়ামাল বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টায় ফ্রান্স একের পর এক আক্রমণ চালালেও এমবাপের শট কুকুরেয়ার ব্লকে আটকে যায়, আবার কখনো গোলরক্ষক উনাই সিমনের অসাধারণ সেভে হতাশ হতে হয় ফরাসিদের।
নির্ধারিত সময় শেষে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। এই জয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল দলটি। আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন।
অন্যদিকে, সেমিফাইনালে হারলেও টুর্নামেন্ট শেষ হয়নি ফ্রান্সের। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পরাজিত দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে এমবাপ্পের ফ্রান্স।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















