চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি ঝরনাগুলোতে দর্শনার্থীদের প্রবেশে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে ভ্রমণে গিয়ে বিপদে পড়েছেন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির চার শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার (১০ জুলাই) সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের সুপ্তধারা ঝরনায় তারা আটকে পড়লে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এ কল পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে গত ৭ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলার বন বিভাগের আওতাধীন সব ঝরনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল বন বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ঝরনাগুলোর মধ্যে বোয়ালিয়া, খৈয়াছড়া, রূপসী, নাপিত্তাছড়া, সহস্রধারা, সুপ্তধারা ও ছোট দারোগারহাট অন্যতম।
বারৈয়াঢালা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন জানান, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধস, আকস্মিক ঢল এবং ঝিরিপথ প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি থাকায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। অতীতে এসব ঝরনায় পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় বন বিভাগ বারবার পর্যটকদের সতর্ক করে আসছে।
সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে শুক্রবার বিকেলে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির চার শিক্ষার্থী সুপ্তধারা ঝরনায় ঘুরতে যান। ফেরার পথে অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি ঝিরিপথ প্লাবিত হয়ে তারা পথ হারিয়ে আটকে পড়েন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তাদের একজন স্বজন আব্দুল আলম ‘৯৯৯’ নম্বরে কল দিলে বিষয়টি সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়।
৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে ৩ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে তাদের নিরাপদ স্থানে উদ্ধার করা হয়। ৯৯৯-এর মিডিয়া ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এমন ঝুঁকি নেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বন বিভাগ পুনরায় পর্যটকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা মেনে সতর্ক থাকার জন্য, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















