০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী ও শিক্ষানুরাগী মাওলানা ওবায়দুল হকের ১০৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মরহুম শাহ সুফি হযরত মাওলানা ওবায়দুল হক

উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী, সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষার আলোকবর্তিকা, মরহুম শাহ সুফি হযরত মাওলানা ওবায়দুল হকের ১০৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৯ জুলাই। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে যিনি জীবনভর সংগ্রাম করে গেছেন, সেই মহাপুরুষের স্মৃতি আজ সীতাকুণ্ডের মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়।

জন্ম ও শিক্ষা জীবন
মাওলানা ওবায়দুল হক চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারীটোলা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মরহুম মাওলানা কমর আলী। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে জ্ঞানের সন্ধানে তিনি পাড়ি জমান ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। দেওবন্দ, পাঞ্জাবের চারহিন্দ, মুরাদাবাদ ও সাহারানপুরসহ তৎকালীন ভারতের নামকরা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেন। পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখে তিনি আরবি উচ্চ সাহিত্যে দুবার স্বর্ণপদক লাভ করার গৌরব অর্জন করেন।

শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান
আধুনিক ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার অধিকারী মাওলানা ওবায়দুল হক উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে দেশে ফিরে আত্মনিয়োগ করেন শিক্ষার বিস্তারে। তৎকালীন অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতে শিক্ষার আলো থেকে পিছিয়ে থাকা মুসলিম সমাজকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে তিনি ছিলেন আপসহীন। সেই লক্ষ্যেই ১৮৮৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রথম আরবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে তিনি সর্বধর্মের মানুষের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমান ‘সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’।

সংগ্রাম ও অদম্য পথচলা
শিক্ষা বিস্তারের এই মহান ব্রত পালন করতে গিয়ে তাঁকে পদে পদে নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়েছে। একটি কুচক্রী মহল তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে, এমনকি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বারবার অগ্নিসংযোগও করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা পর্যন্ত দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু অদম্য চেতনার এই মহাপুরুষ শত বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করেননি। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সত্যের জয় হয় এবং আদালত তাঁর স্বপক্ষেই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

কালের সাক্ষী হয়ে আছে যে প্রতিষ্ঠান
মাওলানা ওবায়দুল হকের অসামান্য অবদানের সাক্ষী হয়ে সীতাকুণ্ডের প্রাণকেন্দ্রে আজও দাঁড়িয়ে আছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত দুটি অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সীতাকুণ্ড লালদীঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত ‘সীতাকুণ্ড এম এ কামিল মাদ্রাসা’ এবং পূর্ব পাড়ে অবস্থিত ‘সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ আজ শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একজন শিক্ষানুরাগীর সংগ্রামের অমর নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।

মরহুম মাওলানা ওবায়দুল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা ও আদর্শ আজও আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী ও শিক্ষানুরাগী মাওলানা ওবায়দুল হকের ১০৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী, সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষার আলোকবর্তিকা, মরহুম শাহ সুফি হযরত মাওলানা ওবায়দুল হকের ১০৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৯ জুলাই। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে যিনি জীবনভর সংগ্রাম করে গেছেন, সেই মহাপুরুষের স্মৃতি আজ সীতাকুণ্ডের মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়।

জন্ম ও শিক্ষা জীবন
মাওলানা ওবায়দুল হক চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারীটোলা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মরহুম মাওলানা কমর আলী। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে জ্ঞানের সন্ধানে তিনি পাড়ি জমান ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। দেওবন্দ, পাঞ্জাবের চারহিন্দ, মুরাদাবাদ ও সাহারানপুরসহ তৎকালীন ভারতের নামকরা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেন। পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখে তিনি আরবি উচ্চ সাহিত্যে দুবার স্বর্ণপদক লাভ করার গৌরব অর্জন করেন।

শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান
আধুনিক ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার অধিকারী মাওলানা ওবায়দুল হক উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে দেশে ফিরে আত্মনিয়োগ করেন শিক্ষার বিস্তারে। তৎকালীন অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতে শিক্ষার আলো থেকে পিছিয়ে থাকা মুসলিম সমাজকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে তিনি ছিলেন আপসহীন। সেই লক্ষ্যেই ১৮৮৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রথম আরবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে তিনি সর্বধর্মের মানুষের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমান ‘সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’।

সংগ্রাম ও অদম্য পথচলা
শিক্ষা বিস্তারের এই মহান ব্রত পালন করতে গিয়ে তাঁকে পদে পদে নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়েছে। একটি কুচক্রী মহল তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে, এমনকি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বারবার অগ্নিসংযোগও করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা পর্যন্ত দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু অদম্য চেতনার এই মহাপুরুষ শত বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করেননি। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সত্যের জয় হয় এবং আদালত তাঁর স্বপক্ষেই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

কালের সাক্ষী হয়ে আছে যে প্রতিষ্ঠান
মাওলানা ওবায়দুল হকের অসামান্য অবদানের সাক্ষী হয়ে সীতাকুণ্ডের প্রাণকেন্দ্রে আজও দাঁড়িয়ে আছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত দুটি অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সীতাকুণ্ড লালদীঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত ‘সীতাকুণ্ড এম এ কামিল মাদ্রাসা’ এবং পূর্ব পাড়ে অবস্থিত ‘সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ আজ শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একজন শিক্ষানুরাগীর সংগ্রামের অমর নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।

মরহুম মাওলানা ওবায়দুল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা ও আদর্শ আজও আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;