ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, রহমতগঞ্জ, শুলকবহর, আগ্রাবাদ ও হামজারবাগসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
জনদুর্ভোগের চিত্র
বৃষ্টির কারণে অফিসগামী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা জাহিদ ইসলাম জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই তাদের বাসার নিচতলা ও রাস্তায় পানি জমে যায়, যা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বহদ্দারহাটের বাসিন্দা হেফাজুতুল ইসলাম জানান, হাঁটুপানিতে রিকশা পাওয়া দুষ্কর, আর পাওয়া গেলেও দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। নগরের সিটি গেট, বাদামতলী, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরা ও পতেঙ্গা এলাকার অনেক সড়ক ও নালা একাকার হয়ে যাওয়ায় ছোট যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
চসিকের দাবি ও নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
এদিকে, সোমবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনিটরিং এবং খাল-নালা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার কারণে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতেও নগরীতে ‘কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি’। চসিকের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও মেয়রের এই দাবির স্বপক্ষে পোস্ট দেওয়া হয়।
তবে এই দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন নগরবাসী। মো. কামরুল হাসান বাপ্পা নামে এক ব্যবহারকারী ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার খাল পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান, অন্যদিকে মোহাম্মদ রাফি নামে আরেকজন জানান, খালের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তিনি এখনও পানির মধ্যে রয়েছেন।
আবহাওয়া ও প্রশাসনের প্রস্তুতি
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আমবাগান এলাকায় ২৫৯ মিলিমিটার এবং পতেঙ্গায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠে থেকে জরুরি সেবা কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের প্রকল্প বাস্তবায়ন সত্ত্বেও প্রতি বর্ষায় একই ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়ায় হতাশ নগরবাসী দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















