০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ১১ স্কুল ও মাদ্রাসা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে ১০টি প্রতিষ্ঠানে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিগুলো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকশূন্য ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো—লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলীল উচ্চবিদ্যালয়, হযরত খাজা কালুশাহ (রা.) বালিকা বিদ্যালয়, ভাটিয়ারী হাজ্বী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদ আবুল কাশেম রাজা উচ্চবিদ্যালয়, সবুজ শিক্ষায়তন উচ্চবিদ্যালয়, কুমিরা আবাসিক উচ্চবিদ্যালয়, আরআর টেক্সটাইল মিলস উচ্চবিদ্যালয়, মাহমুদাবাদ উচ্চবিদ্যালয়, পন্থিছিলা উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসা-এ মোহাম্মদীয়া আহম্মদিয়া সুন্নিয়া এবং লালানগর ইসলামী দাখিল মাদ্রাসা।

পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে ‘পছন্দের লোক’ রাখার অভিযোগ: স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রদের অভিযোগ, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে এবং পড়াশোনার মান ব্যাহত হওয়ায় আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, পরিচালনা পর্ষদ তাদের নিজেদের সুবিধার্থে পছন্দের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রেখেছেন। বেশির ভাগ ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক পরিচালনা কমিটির কথামতো কাজ চলায়, সেখানে নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কমিটির কোনো আগ্রহ নেই। এছাড়া বর্তমানে দায়িত্বরত অনেকেরই প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান হওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারে শিক্ষা অফিস: উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় জানায়, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং মাদ্রাসার সুপার ও সহ-সুপারের শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাধিকবার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিচালনা কমিটিগুলো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আলম সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে। একই নিয়মে চলছে সহকারী প্রধান শিক্ষকবিহীন আরও ১০টি বিদ্যালয়। আমরা শূন্য পদ পূরণের জন্য বারবার লিখিত নির্দেশনা দিলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছি।”

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

সীতাকুণ্ডে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ১১ স্কুল ও মাদ্রাসা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে ১০টি প্রতিষ্ঠানে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিগুলো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকশূন্য ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো—লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলীল উচ্চবিদ্যালয়, হযরত খাজা কালুশাহ (রা.) বালিকা বিদ্যালয়, ভাটিয়ারী হাজ্বী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদ আবুল কাশেম রাজা উচ্চবিদ্যালয়, সবুজ শিক্ষায়তন উচ্চবিদ্যালয়, কুমিরা আবাসিক উচ্চবিদ্যালয়, আরআর টেক্সটাইল মিলস উচ্চবিদ্যালয়, মাহমুদাবাদ উচ্চবিদ্যালয়, পন্থিছিলা উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসা-এ মোহাম্মদীয়া আহম্মদিয়া সুন্নিয়া এবং লালানগর ইসলামী দাখিল মাদ্রাসা।

পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে ‘পছন্দের লোক’ রাখার অভিযোগ: স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রদের অভিযোগ, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে এবং পড়াশোনার মান ব্যাহত হওয়ায় আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, পরিচালনা পর্ষদ তাদের নিজেদের সুবিধার্থে পছন্দের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রেখেছেন। বেশির ভাগ ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক পরিচালনা কমিটির কথামতো কাজ চলায়, সেখানে নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কমিটির কোনো আগ্রহ নেই। এছাড়া বর্তমানে দায়িত্বরত অনেকেরই প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান হওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারে শিক্ষা অফিস: উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় জানায়, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং মাদ্রাসার সুপার ও সহ-সুপারের শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাধিকবার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিচালনা কমিটিগুলো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আলম সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে। একই নিয়মে চলছে সহকারী প্রধান শিক্ষকবিহীন আরও ১০টি বিদ্যালয়। আমরা শূন্য পদ পূরণের জন্য বারবার লিখিত নির্দেশনা দিলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছি।”

খালেদ / পোস্টকার্ড ;