১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সীতাকুণ্ডের গর্ব অধ্যাপক ড. শাহজাহান হাফেজ ভূঁইয়া

মেহেরুন শান্তা ।।

জনপ্রশাসন, সুশাসন, জননীতি ও উন্নয়ন বিষয়ের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক এবং মিশরের দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ইন কায়রোর (AUC) অধ্যাপক ড. শাহজাহান হাফেজ ভূঁইয়া মেধা ও অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার এই কৃতী সন্তান বিশ্বজুড়ে একাডেমিক ও নীতিনির্ধারণী পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছেন।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন
ড. শাহজাহান হাফেজ ভূঁইয়া সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকার ডোয়ালি ভূঁইয়া বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মরহুম শরাফত উল্লাহ ভূঁইয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র।

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করার পর তিনি বারবকুন্ড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তাঁর এই অনন্য সাফল্যের খবর তৎকালীন সময়ে চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে বেশ গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছিল।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষা
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ড. শাহজাহান। পরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। তিনি নরওয়ে থেকে এমফিল এবং জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব বনের (University of Bonn) সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ (ZEF) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১০ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Oxford) ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো হিসেবে গবেষণায় অংশ নেন।

দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগেও শিক্ষকতা করেন। এরপর কাজাখস্তানের কিমেপ বিশ্ববিদ্যালয়ে (KIMEP University) লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন (Dean) হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমান অবস্থান ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
বর্তমানে ড. শাহজাহান হাফেজ ভূঁইয়া মিশরের স্বনামধন্য দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ইন কায়রোর (AUC) ‘ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক পলিসি অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর অধ্যাপক এবং ‘স্কুল অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি’-এর অ্যাসোসিয়েট ডিন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি একই বিভাগে দুই মেয়াদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

জনপ্রশাসন ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (NAPA)-এর ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

শিকড়ের টানে জন্মভূমিতে
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এত বড় সাফল্যের পরও ড. শাহজাহান ভূঁইয়া নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি। বাংলাদেশে আসার সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে যান তাঁর প্রিয় জন্মভূমি বাঁশবাড়িয়াতে। এলাকার শিক্ষা, সমাজসেবা ও সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি নিজেকে সবসময় সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেন।

অধ্যবসায় ও মেধার জোরে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সীতাকুণ্ডের এই কৃতী ব্যক্তিত্ব বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও গুণীজনরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর কর্মসাফল্য কামনা করেছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সীতাকুণ্ডের গর্ব অধ্যাপক ড. শাহজাহান হাফেজ ভূঁইয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মেহেরুন শান্তা ।।

জনপ্রশাসন, সুশাসন, জননীতি ও উন্নয়ন বিষয়ের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক এবং মিশরের দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ইন কায়রোর (AUC) অধ্যাপক ড. শাহজাহান হাফেজ ভূঁইয়া মেধা ও অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার এই কৃতী সন্তান বিশ্বজুড়ে একাডেমিক ও নীতিনির্ধারণী পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছেন।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন
ড. শাহজাহান হাফেজ ভূঁইয়া সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকার ডোয়ালি ভূঁইয়া বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মরহুম শরাফত উল্লাহ ভূঁইয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র।

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করার পর তিনি বারবকুন্ড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তাঁর এই অনন্য সাফল্যের খবর তৎকালীন সময়ে চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে বেশ গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছিল।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষা
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ড. শাহজাহান। পরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। তিনি নরওয়ে থেকে এমফিল এবং জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব বনের (University of Bonn) সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ (ZEF) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১০ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Oxford) ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো হিসেবে গবেষণায় অংশ নেন।

দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগেও শিক্ষকতা করেন। এরপর কাজাখস্তানের কিমেপ বিশ্ববিদ্যালয়ে (KIMEP University) লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন (Dean) হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমান অবস্থান ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
বর্তমানে ড. শাহজাহান হাফেজ ভূঁইয়া মিশরের স্বনামধন্য দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ইন কায়রোর (AUC) ‘ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক পলিসি অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর অধ্যাপক এবং ‘স্কুল অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি’-এর অ্যাসোসিয়েট ডিন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি একই বিভাগে দুই মেয়াদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

জনপ্রশাসন ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (NAPA)-এর ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

শিকড়ের টানে জন্মভূমিতে
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এত বড় সাফল্যের পরও ড. শাহজাহান ভূঁইয়া নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি। বাংলাদেশে আসার সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে যান তাঁর প্রিয় জন্মভূমি বাঁশবাড়িয়াতে। এলাকার শিক্ষা, সমাজসেবা ও সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি নিজেকে সবসময় সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেন।

অধ্যবসায় ও মেধার জোরে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সীতাকুণ্ডের এই কৃতী ব্যক্তিত্ব বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও গুণীজনরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর কর্মসাফল্য কামনা করেছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;