চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে পৌরসভার একটি চারতলা ভবনে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় ভবনের মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে আরও ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ২টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রমোদ দাসের বাড়িতে অবস্থিত ওই চারতলা ভবনে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা লোকমানের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালীন সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ওই বহুতল ভবনে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব উপায়ে নেওয়া অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে ভবনের মালিক বিশ্বনাথ দাসকে বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী নগদ ২ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে শাস্তির আদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযানে বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমতিয়াজ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইখলাস উদ্দিন এবং সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রমোদ দাসের বাড়ির এই চারতলা ভবনটিতে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে পরিচালিত এক অভিযানে এই একই ভবনে ৭টি অবৈধ গ্যাস সংযোগের সন্ধান পেয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সে সময় তিতাস বা সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ কর্তৃপক্ষের অভিযানিক দল ভবনটির সবগুলো অবৈধ গ্যাস সংযোগের নোজল খুলে নিয়েছিল এবং লাইনগুলো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডকে শতভাগ অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাসমুক্ত করতে এই চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন স্পটে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের দায়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১১টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সরকারি সম্পদ চুরি ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক মহল। প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় সীতাকুণ্ডে এমন অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















