আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) নিখোঁজ শিক্ষার্থী মো. শহিদুল ইসলামের (২৮) অর্ধগলিত লাশ সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা সাগর উপকূল থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
গত শুক্রবার দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সোমবার (১৫ জুন) রাত আটটার দিকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
শহিদুলের এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তাঁর পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তিনি কীভাবে এবং কার সঙ্গে সাগরে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনেরা।
নিহত শহীদুল ইসলাম আইআইইউসির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপের কাছিয়াপাড় ইউনিয়নে হলেও, তিনি পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায় থাকতেন।
শুক্রবার দুপুর: জুমার নামাজ ও দুপুরের খাবার শেষে মোবাইল নিয়ে বাসা থেকে বের হন শহিদুল। রাতে বাসায় না ফেরায় এবং ফোন বন্ধ থাকায় পাহাড়তলী থানায় জিডি করে পরিবার।
সোমবার রাতে সীতাকুণ্ড উপকূলে লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে পরনের টি-শার্ট ও প্যান্ট দেখে শহিদুলের লাশ শনাক্ত করেন তাঁর ভাই মুক্তাদের মাওলা।
নিহতের ভাই মুক্তাদের মাওলা জানান, শহিদুলের সাগরের দিকে যাওয়ার কোনো কারণ ছিল না। তাঁর কোনো শত্রু বা রাজনৈতিক বিরোধও ছিল না। লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। ওই নম্বরগুলো ইতিমধ্যে পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের ধারণা, শহিদুল কোনো অপরাধী চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন।
কুমিরা নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াহেদ জানান, ধারণা করা হচ্ছে ২-৩ দিন আগে সাগরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং লাশ ভেসে উপকূলে এসেছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আপাতত একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার প্রমাণ মিললে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। রিপোর্টের পর পরিবারও আনুষ্ঠানিক হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















