১০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগেই তাণ্ডব, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গলসলিমপুরে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা ও অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বাদী হয়ে সোমবার রাতে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় জঙ্গলসলিমপুরের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনসহ ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলা, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির মারাত্মক ক্ষতিসাধন এবং বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ৪২ জন আসামির মধ্যে যৌথবাহিনীর অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জনও রয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পাহাড়ে চিরুনি অভিযান চলছে।

র‍্যাব-৭–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, জঙ্গলসলিমপুর থেকে বিতাড়িত ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন লোক সংঘবদ্ধ হয়ে রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে আলীনগর এলাকার ক্যাম্পে এই ভয়াবহ হামলা চালায়। সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যদের হাতে রামদা ও দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একে-৪৭ (AK-47) এর মতো অত্যাধুনিক ও নিষিদ্ধ স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

হামলাকারীরা শুধু মুহুর্মুহু গুলিই ছোড়েনি, তারা সাথে করে বুলডোজার নিয়ে এসে আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে স্থাপিত যৌথ চৌকির দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া ব্যাকআপ ফোর্স যেন আসতে না পারে, সেজন্য এস্কেভেটর দিয়ে আগেই পাহাড়ের ৪টি স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী ৩১ মে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই জঙ্গলসলিমপুর এলাকা পরিদর্শন এবং যৌথবাহিনীর এই স্থায়ী ক্যাম্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা ছিল। গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের ৩ হাজার ২০০ সদস্যের এক মেগা অভিযানের পর আলীনগর উচ্চবিদ্যালয় ভবনে পুলিশ, এপিবিএন, আরআরএফ ও র‍্যাবের ১৩০ জন সদস্য নিয়ে এই বিশেষ ক্যাম্পটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাত্র কয়েকদিন আগে এমন সুপরিকল্পিত হামলা সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

জঙ্গলসলিমপুর ও আলীনগরের ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি উদ্ধার এবং সেখানে কারাগার ও আইটি পার্কসহ ১১টি সরকারি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে। কিন্তু অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে ইয়াসিন ও রোকন বাহিনী বারবার রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এর আগে গত জানুয়ারি মাসেও এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় একজন র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন।

সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ও র‍্যাব জানিয়েছে, পুরো এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে থমথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের আগে জঙ্গলসলিমপুরকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে এবং একে-৪৭ সহ পলাতক আসামিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগেই তাণ্ডব, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গলসলিমপুরে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা ও অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বাদী হয়ে সোমবার রাতে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় জঙ্গলসলিমপুরের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনসহ ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলা, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির মারাত্মক ক্ষতিসাধন এবং বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ৪২ জন আসামির মধ্যে যৌথবাহিনীর অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জনও রয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পাহাড়ে চিরুনি অভিযান চলছে।

র‍্যাব-৭–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, জঙ্গলসলিমপুর থেকে বিতাড়িত ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন লোক সংঘবদ্ধ হয়ে রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে আলীনগর এলাকার ক্যাম্পে এই ভয়াবহ হামলা চালায়। সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যদের হাতে রামদা ও দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একে-৪৭ (AK-47) এর মতো অত্যাধুনিক ও নিষিদ্ধ স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

হামলাকারীরা শুধু মুহুর্মুহু গুলিই ছোড়েনি, তারা সাথে করে বুলডোজার নিয়ে এসে আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে স্থাপিত যৌথ চৌকির দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া ব্যাকআপ ফোর্স যেন আসতে না পারে, সেজন্য এস্কেভেটর দিয়ে আগেই পাহাড়ের ৪টি স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী ৩১ মে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই জঙ্গলসলিমপুর এলাকা পরিদর্শন এবং যৌথবাহিনীর এই স্থায়ী ক্যাম্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা ছিল। গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের ৩ হাজার ২০০ সদস্যের এক মেগা অভিযানের পর আলীনগর উচ্চবিদ্যালয় ভবনে পুলিশ, এপিবিএন, আরআরএফ ও র‍্যাবের ১৩০ জন সদস্য নিয়ে এই বিশেষ ক্যাম্পটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাত্র কয়েকদিন আগে এমন সুপরিকল্পিত হামলা সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

জঙ্গলসলিমপুর ও আলীনগরের ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি উদ্ধার এবং সেখানে কারাগার ও আইটি পার্কসহ ১১টি সরকারি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে। কিন্তু অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে ইয়াসিন ও রোকন বাহিনী বারবার রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এর আগে গত জানুয়ারি মাসেও এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় একজন র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন।

সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ও র‍্যাব জানিয়েছে, পুরো এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে থমথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের আগে জঙ্গলসলিমপুরকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে এবং একে-৪৭ সহ পলাতক আসামিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;