পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শখ করে কোরবানির গরু কিনেছিলেন মোঃ নাছির উদ্দীন (৪৫)। কিন্তু সেই গরু নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না তার। বাড়ি ফেরার পথেই এক দ্রুতগামী ঘাতক কাভার্ডভ্যান কেড়ে নিলো তার প্রাণ। ঈদের আনন্দ এক মুহূর্তেই রূপ নিলো বিষাদ ও কান্নায়।
সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়নের পাইলন ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সীতাকুণ্ডের পাকা রাস্তার মাথা এলাকায় ড্রিম স্টিল রি-রোলিং মিলস মাঠে বসেছে কোরবানির পশুর হাট। সোমবার রাতে সেই হাট থেকে নিজের পছন্দের কোরবানির গরু কেনেন নাছির উদ্দীন। এরপর গরুটিকে নিয়ে মহাসড়ক ধরে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
পথিমধ্যে সলিমপুর পাইলন ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান তাকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় তিনি মহাসড়কে ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থপেই তার মৃত্যু হয়।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত মোঃ নাছির উদ্দীন সীতাকুণ্ডের ওভারব্রিজ ফকিরহাট এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সলিমপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি নিয়ে চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের সহায়তায় তা আটক করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে সীতাকুণ্ডের ফকিরহাট এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছরই কোরবানির পশুর হাটের আশেপাশে মহাসড়কে বেপরোয়া গাড়ির কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















