১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিঝুম প্রকৃতির টানে সীতাকুণ্ডের আকিলপুর সৈকতে পর্যটক, প্রয়োজন টেকসই যাতায়াত ও পরিবেশ সুরক্ষা

চট্টগ্রামের পর্যটন মানচিত্রে নতুন এক মুগ্ধতার নাম সীতাকুণ্ডের আকিলপুর সমুদ্রসৈকত। পতেঙ্গার বিকল্প হিসেবে নিরিবিলি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের খোঁজে থাকা পর্যটকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই নয়নাভিরাম স্পটটি। সম্পূর্ণ কৃত্রিমতামুক্ত এই সৈকতের প্রশান্তি এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণপিপাসুদের টানছে।

চট্টগ্রাম মহানগর থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে ছোট কুমিরা বাজারের পশ্চিমে আকিলপুর গ্রামের অবস্থান। শহর থেকে বাসে করে ছোট কুমিরা নেমে লোকাল সিএনজিযোগে মাত্র ১০ টাকা ভাড়ায় নূরীয় মাদ্রাসা বা নিমতলা রোড হয়ে যাওয়া যায় এই সৈকতে। সরাসরি সৈকতের পয়েন্টে নামতে চাইলে রিজার্ভ সিএনজি ভাড়া নিতে পারে ১০০ টাকার মতো। যাতায়াতের পথটি কিছুটা সরু ও ভাঙাচোরা হলেও দুই ধারের গ্রামীণ জনপদ, ফসলি জমি আর পাখির কিচিরমিচির শব্দ পর্যটকদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।

এক সময় এই এলাকাটি জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে থাকলেও সরকার বাঁশবাড়িয়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করার পর চিত্র বদলে গেছে। বাঁধের কোল ঘেঁষে লাগানো সারি সারি নারিকেল গাছ আর বড় বড় পাথর সৈকতের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জোয়ার-ভাটার খেলা: জোয়ারের সময় উত্তাল জলরাশি আর ঢেউয়ের শব্দ যেমন শিহরণ জাগায়, তেমনি ভাটার সময় বালুচরে হাঁটার সুযোগ পাওয়া যায়।

বিশেষ আকর্ষণ: দোলনায় বসে সমুদ্র উপভোগ, সাগরের বুকে জেলেদের মাছ ধরা এবং দূরে বড় বড় জাহাজ চলাচলের দৃশ্য পর্যটকদের বিমোহিত করে। এখান থেকে সন্দ্বীপগামী স্পিডবোট চলাচলের দৃশ্যও স্পষ্ট দেখা যায়।

পর্যটকদের সুবিধার্থে স্থানীয়রা এখানে গড়ে তুলেছে ছোট ছোট দোকান। সেখানে বসে সমুদ্র উপভোগের পাশাপাশি কাঁকড়া ফ্রাই, নুডলস, মুড়িমাখা ও পেঁয়াজুর মতো মুখরোচক খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়। গোধূলি বেলায় এখানকার সূর্যাস্ত দেখার জন্য বিশেষ করে শুক্রবারগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

পর্যটন বাড়ার সাথে সাথে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের কারণে সৈকতের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। সচেতন পর্যটকরা মনে করেন, এখানে যদি পর্যাপ্ত স্যানিটেশন, গাড়ি পার্কিং এবং স্থায়ী ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা যায়, তবে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

নিঝুম প্রকৃতির টানে সীতাকুণ্ডের আকিলপুর সৈকতে পর্যটক, প্রয়োজন টেকসই যাতায়াত ও পরিবেশ সুরক্ষা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের পর্যটন মানচিত্রে নতুন এক মুগ্ধতার নাম সীতাকুণ্ডের আকিলপুর সমুদ্রসৈকত। পতেঙ্গার বিকল্প হিসেবে নিরিবিলি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের খোঁজে থাকা পর্যটকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই নয়নাভিরাম স্পটটি। সম্পূর্ণ কৃত্রিমতামুক্ত এই সৈকতের প্রশান্তি এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণপিপাসুদের টানছে।

চট্টগ্রাম মহানগর থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে ছোট কুমিরা বাজারের পশ্চিমে আকিলপুর গ্রামের অবস্থান। শহর থেকে বাসে করে ছোট কুমিরা নেমে লোকাল সিএনজিযোগে মাত্র ১০ টাকা ভাড়ায় নূরীয় মাদ্রাসা বা নিমতলা রোড হয়ে যাওয়া যায় এই সৈকতে। সরাসরি সৈকতের পয়েন্টে নামতে চাইলে রিজার্ভ সিএনজি ভাড়া নিতে পারে ১০০ টাকার মতো। যাতায়াতের পথটি কিছুটা সরু ও ভাঙাচোরা হলেও দুই ধারের গ্রামীণ জনপদ, ফসলি জমি আর পাখির কিচিরমিচির শব্দ পর্যটকদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।

এক সময় এই এলাকাটি জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে থাকলেও সরকার বাঁশবাড়িয়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করার পর চিত্র বদলে গেছে। বাঁধের কোল ঘেঁষে লাগানো সারি সারি নারিকেল গাছ আর বড় বড় পাথর সৈকতের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জোয়ার-ভাটার খেলা: জোয়ারের সময় উত্তাল জলরাশি আর ঢেউয়ের শব্দ যেমন শিহরণ জাগায়, তেমনি ভাটার সময় বালুচরে হাঁটার সুযোগ পাওয়া যায়।

বিশেষ আকর্ষণ: দোলনায় বসে সমুদ্র উপভোগ, সাগরের বুকে জেলেদের মাছ ধরা এবং দূরে বড় বড় জাহাজ চলাচলের দৃশ্য পর্যটকদের বিমোহিত করে। এখান থেকে সন্দ্বীপগামী স্পিডবোট চলাচলের দৃশ্যও স্পষ্ট দেখা যায়।

পর্যটকদের সুবিধার্থে স্থানীয়রা এখানে গড়ে তুলেছে ছোট ছোট দোকান। সেখানে বসে সমুদ্র উপভোগের পাশাপাশি কাঁকড়া ফ্রাই, নুডলস, মুড়িমাখা ও পেঁয়াজুর মতো মুখরোচক খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়। গোধূলি বেলায় এখানকার সূর্যাস্ত দেখার জন্য বিশেষ করে শুক্রবারগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

পর্যটন বাড়ার সাথে সাথে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের কারণে সৈকতের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। সচেতন পর্যটকরা মনে করেন, এখানে যদি পর্যাপ্ত স্যানিটেশন, গাড়ি পার্কিং এবং স্থায়ী ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা যায়, তবে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;