সীতাকুণ্ডের ডেবাপাড় এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয় একঝাঁক উদ্যমী যুবক। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ দশা কাটিয়ে সীতাকুণ্ড ডেবার পূর্ব পাড়ে অবস্থিত ‘আল আকসা মসজিদ’ সংলগ্ন রাস্তাটির ঢালাই কাজ শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়ন ও একদল সেচ্ছাসেবী তরুণের নিরলস পরিশ্রমে এই উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।
১৯৯৫ সালে এলাকাবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় আল আকসা মসজিদ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মসজিদটি স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মূল কেন্দ্র হয়ে উঠলেও যাতায়াতের রাস্তাটি ছিল অবহেলিত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা আর পিচ্ছিল পথে মসজিদে যাতায়াত মুসল্লিদের জন্য চরম বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়াত। বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য এই পথটি হয়ে উঠেছিল প্রায় দুর্গম।
মসুল্লিদের এই দুর্ভোগ লাঘবে এবার এগিয়ে এসেছেন এলাকার একদল নিবেদিতপ্রাণ যুবক। ইফতেখার উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, সোহেল রানা, মো. বেলাল, সেলিম উদ্দিন, আলমগীর বোরহান, আবুল কালাম, শামসুল আলম, সালাহ উদ্দিন, মাঈনুল হাসান, আবুল বশর, সায়পম উদ্দিন ও সাজিন সহ একঝাঁক তরুণ নিজ উদ্যোগে এই পরিবর্তনের হাল ধরেন। ইতিপূর্বেই তারা মসজিদের পাশে ডেবা বা দিঘীতে সুপরিসর ঘাটলা ও অজুখানা নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ।
স্থানীয় সমাজসেবক মো. ইফতেখার উদ্দিন জানান, ১৯৯৫ সালে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এর নিজস্ব কোনো স্থায়ী ফান্ড বা সরকারি অনুদান নেই। মূলত এলাকাবাসীর মাসিক চাঁদা এবং সামর্থ্যবানদের সাহায্যেই মসজিদটির যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার কাজ চলে। তিনি বলেন, “প্রতি বছরই মসজিদের কোনো না কোনো মেরামতের কাজ করতে হয়। মুসল্লিদের সুবিধার্থে আমরা দিঘীতে ঘাটলা ও অযুখানা নির্মাণ করেছি। এখন এই রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে মসজিদে যাতায়াত করতে পারবেন।”
এই তরুণ উন্নয়ন দলটি কেবল মসজিদের কাজেই সীমাবদ্ধ নেই। জানা গেছে, এলাকার শিক্ষার প্রসারে ‘কথাকলি স্কুল’ সংস্কার এবং স্কুল সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট মেরামতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় ডেবার পাড়ের গাছপালা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, নিজেদের টাকায় এবং নিজেদের সন্তানদের পরিশ্রমে এই কাজ সম্পন্ন হওয়াটা এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। সরকারি সহায়তার জন্য অপেক্ষা না করে তরুণেরা যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা সীতাকুণ্ডের অন্যান্য এলাকার জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বর্তমানে ঢালাইয়ের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কাজ সম্পন্ন হলে ডেবার পূর্ব পাড়ের এই অঞ্চলটি একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল অবয়ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















