চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বীরত্বের প্রতীক আবদুল জব্বারের ঐতিহাসিক বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা এবং মেলা আয়োজনের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে বলীখেলার মূল আসর। এটি এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের ১১৭তম আসর।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত সূচি তুলে ধরেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল। তিনি জানান, ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা মেনে ১২ বৈশাখ বলীখেলা আয়োজনের কথা থাকলেও এবছর পরীক্ষা ও আনুষঙ্গিক পরিস্থিতির সমন্বয় করে সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৬ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও সার্বিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে ২৬ এপ্রিল ভোরের মধ্যেই মেলা সমাপ্ত করার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। লালদীঘি ও আশপাশের এলাকায় বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার এবং সিসিটিভি ক্যামেরা। পুলিশের বিশেষ দল মেলার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করবে।
বলীখেলার উদ্বোধন করবেন হাসান মো. শওকত আলী এবং পুরস্কার বিতরণ করবেন শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আবু সুফিয়ান।
মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার শুরু হলেও লালদীঘির আশপাশের রাস্তায় ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দোকানিরা পসরা সাজাতে শুরু করেছেন। মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের সামগ্রী এবং ঘর সাজানোর হরেক রকম জিনিসের আগমনে লালদীঘি এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য যে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার তরুণদের শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে ১৯০৯ সালে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার সূচনা করেন। দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি চট্টগ্রামের প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















