বান্দরবানের লামা উপজেলায় মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের তরুণ পর্যটক আব্দুল ওয়াদুদ সায়েম (২১)। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের পর্যটন কেন্দ্র ‘সাদাপাহাড়’ সংলগ্ন মিনঝিরি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সায়েম সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সায়েম তার পাঁচ বন্ধুর একটি দলের সাথে লামার মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী একটি রিসোর্টে ভ্রমণে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে তারা মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নামেন। সায়েম সাঁতার কাটতে কাটতে হঠাৎ নদীর গভীর অংশে চলে যান এবং পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান। তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেন। পরবর্তীকালে লামা ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর নদীর তলদেশ থেকে সায়েমের নিথর দেহ উদ্ধার করে।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, নদীতে নামার আগে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, নদীর কিছু অংশ অত্যন্ত গভীর এবং সেখানে চোরাবালি বা ঘূর্ণিস্রোত থাকার সম্ভাবনা থাকে। আমরা বারবার গভীর পানিতে না যেতে সতর্কতা জারি করেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা সেটি উপেক্ষা করেই পানিতে নামেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে পাহাড়ি নদী বা ঝরনায় গোসল করার সময় পর্যটকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় পরিবেশবাদীরা ও প্রশাসন মতে পর্যটকদের পাহাড়ি নদীর গভীরতা সব জায়গায় সমান থাকে না, তাই না জেনে নামা বিপজ্জনক তাছাড়াও রিসোর্ট বা স্থানীয়দের দেওয়া বিধিনিষেধ ও সতর্ক সংকেত মেনে চলা উচিৎ তাছাড়া সাঁতার না জানলে বা গভীর পানিতে নামলে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা উচিত।
সায়েমের এই অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঈদের আমেজ কাটতে না কাটতেই এমন বিয়োগান্তক ঘটনা পর্যটন সংশ্লিষ্টদেরও ব্যথিত করেছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















