১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঝপথে ফুরিয়ে গেল তেল, সীতাকুণ্ডে হানিফ পরিবহনের বাস বিকল- চরম ভোগান্তিতে ৩০ যাত্রী

সিলেট থেকে কক্সবাজারগামী হানিফ পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস মাঝপথে জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় মহাসড়কের ওপর আটকা পড়েছে। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাতটার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বানুর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে বাসে থাকা ৩০ জন যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয় হানিফ পরিবহনের বাসটি। দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা ভ্রমণের পর বুধবার সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী পৌঁছালে হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। চালক জানান, গাড়ির জ্বালানি তেল পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসটি অচল হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে বুধবার সকাল আটটায় দেখা যায়, মহাসড়কের ওপর বাসটি দাঁড়িয়ে আছে। চালকের সহকারী বালতি হাতে আশপাশের ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তেলের ব্যবস্থা করা যায়নি।

বাসের যাত্রী ওবায়দুল রহমান বলেন, “সিলেট থেকে টেকনাফ যাওয়ার জন্য এই বাসে উঠেছিলাম। চালক পথে কয়েকটি স্টেশনে ১০-২০ লিটার করে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি বাড়তি টাকা দিয়েও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যায়নি। এখন সীতাকুণ্ডে এসে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।”

আরেক যাত্রী মোবারক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ৯টায় কক্সবাজারে আমার একটি পেশাগত প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। সীতাকুণ্ডেই আটটা বেজে গেছে। এখন সময়মতো পৌঁছানো অসম্ভব।”

বাসচালক ওসমান গনি জানান, সিলেট থেকে কক্সবাজার যেতে অন্তত ১৬০ লিটার জ্বালানি তেল প্রয়োজন হলেও তিনি পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় মাত্র ৭০ লিটার নিয়ে যাত্রা শুরু করতে বাধ্য হয়েছিলেন। পথে অনেক ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত তেল মেলেনি।

চালকের দাবি, “অনেক স্টেশনে অনুরোধ করেও তেল পাইনি। সীতাকুণ্ড থেকে কক্সবাজার যেতে আরও ৬০ লিটার তেল লাগবে। যেসব যাত্রীর চট্টগ্রাম শহরে নামার কথা ছিল, তাদের কিছু টাকা দিয়ে লোকাল বাসে তুলে দেওয়া হচ্ছে। বাকি যাত্রীদের আমাদের কোম্পানির অন্য একটি বাসে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।”

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসে এমন জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ঘটনা পরিবহন খাতের বর্তমান অস্থিরতাকেই সামনে এনেছে। অনেক ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ কম থাকায় যানবাহনগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে যাতে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বাসের কারণে যানজটের সৃষ্টি না হয়।

খালেদ / পোস্টকার্ড

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

মাঝপথে ফুরিয়ে গেল তেল, সীতাকুণ্ডে হানিফ পরিবহনের বাস বিকল- চরম ভোগান্তিতে ৩০ যাত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সিলেট থেকে কক্সবাজারগামী হানিফ পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস মাঝপথে জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় মহাসড়কের ওপর আটকা পড়েছে। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাতটার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বানুর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে বাসে থাকা ৩০ জন যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয় হানিফ পরিবহনের বাসটি। দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা ভ্রমণের পর বুধবার সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী পৌঁছালে হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। চালক জানান, গাড়ির জ্বালানি তেল পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসটি অচল হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে বুধবার সকাল আটটায় দেখা যায়, মহাসড়কের ওপর বাসটি দাঁড়িয়ে আছে। চালকের সহকারী বালতি হাতে আশপাশের ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তেলের ব্যবস্থা করা যায়নি।

বাসের যাত্রী ওবায়দুল রহমান বলেন, “সিলেট থেকে টেকনাফ যাওয়ার জন্য এই বাসে উঠেছিলাম। চালক পথে কয়েকটি স্টেশনে ১০-২০ লিটার করে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি বাড়তি টাকা দিয়েও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যায়নি। এখন সীতাকুণ্ডে এসে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।”

আরেক যাত্রী মোবারক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ৯টায় কক্সবাজারে আমার একটি পেশাগত প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। সীতাকুণ্ডেই আটটা বেজে গেছে। এখন সময়মতো পৌঁছানো অসম্ভব।”

বাসচালক ওসমান গনি জানান, সিলেট থেকে কক্সবাজার যেতে অন্তত ১৬০ লিটার জ্বালানি তেল প্রয়োজন হলেও তিনি পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় মাত্র ৭০ লিটার নিয়ে যাত্রা শুরু করতে বাধ্য হয়েছিলেন। পথে অনেক ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত তেল মেলেনি।

চালকের দাবি, “অনেক স্টেশনে অনুরোধ করেও তেল পাইনি। সীতাকুণ্ড থেকে কক্সবাজার যেতে আরও ৬০ লিটার তেল লাগবে। যেসব যাত্রীর চট্টগ্রাম শহরে নামার কথা ছিল, তাদের কিছু টাকা দিয়ে লোকাল বাসে তুলে দেওয়া হচ্ছে। বাকি যাত্রীদের আমাদের কোম্পানির অন্য একটি বাসে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।”

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসে এমন জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ঘটনা পরিবহন খাতের বর্তমান অস্থিরতাকেই সামনে এনেছে। অনেক ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ কম থাকায় যানবাহনগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে যাতে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বাসের কারণে যানজটের সৃষ্টি না হয়।

খালেদ / পোস্টকার্ড